আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন প্রশাসন। এখন থেকে দেশের কোনো ব্যাংকেই আর সুদভিত্তিক লেনদেন চলবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করে সব আর্থিক কার্যক্রমকে শরিয়াহসম্মত বা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে।আফগানিস্তান ব্যাংক (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, দেশজুড়ে পরিচালিত সব বাণিজ্যিক ও সরকারি ব্যাংকে ‘সুদ’ বা ‘রিবা’ প্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা বিভাগের পরিচালক ড. লুতফুল্লাহ খায়েরখাহ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাত এখন সুদভিত্তিক লেনদেনের যুগ শেষ করে একটি আধুনিক ও টেকসই ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, গত এক বছরে গৃহীত সফল মুদ্রানীতির ফলে এই আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। তারা দাবি করছেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং খাতের প্রতি হারানো আস্থা পুনরায় ফিরে এসেছে।উল্লেখ্য যে, ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধাপে ধাপে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শরিয়াহ নীতিমালার অধীনে আনার কাজ শুরু করেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের সুদের আদান-প্রদান এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয়। এর পরিবর্তে মুরাবাহা, মুশারাকা এবং অন্যান্য ইসলামী বিনিয়োগ পদ্ধতির মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ এবং আমানতকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে বর্তমান প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে।