গবেষণার পর সত্যের সন্ধান: সাকারিয়ায় সার্বীয় গবেষক ডেভিডের ইসলাম গ্রহণ
ধর্মের ইতিহাস নিয়ে গবেষণারত সার্বীয় নাগরিক ডেভিড লুচিক তুরস্কের সাকারিয়া প্রদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানী গবেষণা এবং স্থানীয় এক মুসলিম নারীর জীবনদর্শনে প্রভাবিত হয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। সাকারিয়ার কারাসু জেলা মুফতি কার্যালয়ে আয়োজিত এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি পবিত্র ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।তুরস্কের সাকারিয়া প্রদেশের কারাসু জেলায় এক অনন্য আধ্যাত্মিক যাত্রার সমাপ্তি ঘটালেন সার্বিয়ার নাগরিক ডেভিড লুচিক। পেশাগত বা ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ‘ধর্মের ইতিহাস’ (History of Religions) নিয়ে গবেষণা করছিলেন তিনি। গবেষণার এই পথ ধরেই তিনি ইসলামের সুশীতল ছায়ার সান্নিধ্যে আসেন। এছাড়া কারাসু জেলায় থাকাকালীন এক মুসলিম নারীর ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, যা তার দীর্ঘদিনের লালিত সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করে।কারাসু জেলা মুফতি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ইহতিদা’ (ধর্মান্তর) অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কার্যালয়ের শাখা ব্যবস্থাপক মুরাত চেতিন এবং অন্যান্য সাক্ষীগণ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মুরাত চেতিন ইসলামের মূল স্তম্ভ এবং ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো ডেভিডের সামনে ব্যাখ্যা করেন। ইসলামি বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভের পর, ডেভিড লুচিক স্বেচ্ছায় ‘কালিমা শাহাদাত’ পাঠ করে মুসলিম হন এবং নিজের নতুন নাম গ্রহণ করেন ‘মেহমেত’।অনুষ্ঠান শেষে কারাসু মুফতি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে মেহমেতকে একটি ‘ইহতিদা সনদ’ বা ইসলাম গ্রহণের দাপ্তরিক সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এছাড়া তাকে পবিত্র কুরআন মাজীদ এবং দিয়ানেত (তুরস্কের ধর্মীয় বিষয়ক অধিদপ্তর) প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণামূলক বই উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। মেহমেত জানান, গবেষণার মাধ্যমে পাওয়া সত্যকে জীবনের অংশ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।