ঢাকা ওয়াসার পানিতে ‘বিষ’—জনস্বাস্থ্যের ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রাজধানী
রাজধানী ঢাকার কোটি মানুষের সুপেয় পানির প্রধান উৎস ঢাকা ওয়াসা। কিন্তু সেই পানিতেই পাওয়া গেছে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী মারাত্মক রাসায়নিক উপাদান PFAS (Per- and Polyfluoroalkyl Substances), কীটনাশক এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের অবশিষ্টাংশ। সম্প্রতি সাবেক সচিব মাহবুব কবীর মিলন তাঁর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই ভয়াবহ তথ্য সামনে এনেছেন।শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সুইডেনের Umea University-এর সহযোগিতায় একটি যৌথ গবেষণা পরিচালনা করেন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত পানির নমুনা সুইডিশ ল্যাবে পরীক্ষা করা হলে সেখানে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়।গবেষণায় মূলত তিনটি বড় ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে:PFAS: যা ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ নামে পরিচিত এবং সরাসরি ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।কীটনাশক (Pesticides): কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত উপাদান যা পানির স্তরে মিশে যাচ্ছে।ফার্মাসিউটিক্যালস: ওষুধের অবশিষ্টাংশ যা দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সসহ নানা জটিলতা তৈরি করে।সাবেক সচিব মাহবুব কবীর মিলন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সাথে ফোনে আলাপ করে এই গবেষণার ফলাফল এবং এর ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন:গবেষণায় যুক্ত ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের ড. আরিফ এবং ড. কাইউম।গবেষণা পত্র প্রকাশের সময় ওয়াসার চারজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।সচিব পরামর্শ দিয়েছেন যেন ওয়াসা দ্রুত তাদের নিজস্ব ল্যাব এবং বিশেষজ্ঞ দিয়ে সার্ফেস (পৃষ্ঠদেশীয়) ও গ্রাউন্ড ওয়াটার (ভূগর্ভস্থ) আলাদাভাবে পরীক্ষা করে এর ‘রুট কজ’ বা মূল উৎস নির্ণয় করে।"আমরা গড়ে প্রতিদিন দুই লিটার পানি খেলে কী পরিমাণ মারাত্মক কেমিক্যাল কন্টামিনেশন যাচ্ছে আমাদের শরীরে, সেটার ভয়াবহতা চিন্তা করা যায় না। বিশেষ করে শিশুদের ওপর এর প্রভাব হবে অপূরণীয়।" — মাহবুব কবীর মিলনওয়াসার এমডি তাঁকে আগামী সপ্তাহে দেখা করার আমন্ত্রণ জানালেও, সাবেক এই সচিব তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত প্রচার বা আতিথেয়তার চেয়ে কাজের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা এবং খাদ্য ও পানির নিরাপত্তার বিষয়ে সাধারণ মানুষের উদাসীনতায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খাবার পানির সাথে এভাবে পিফাস ও কীটনাশক খাওয়ার রেকর্ড পৃথিবীতে বিরল।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ওয়াসার উচিত অবিলম্বে স্বাধীন ল্যাবে পানির মান পুনরায় পরীক্ষা করা এবং জনস্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অন্যথায় পুরো জাতি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।