শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুশ্চিন্তায় বিশ্ববাজার

ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের অতিগুরুত্বপূর্ণ 'ইস্ট-ওয়েস্ট' তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত ও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ৭৫০ মাইল দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে প্রায় ৪ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১২০ ডলার পর্যন্ত লাফিয়ে উঠতে পারে বলে স সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।আন্তর্জাতিক নৌপথ ও জ্বালানি খাতে উত্তেজনার পারদ আরও এক ধাপ চড়ল। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান ইরান ও আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এই ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটিই ছিল রিয়াদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ।প্রায় ৭৫০ মাইল বিস্তৃত এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র (যেমন- আবকাইক) থেকে লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। উপগ্রহ সূত্রে প্রাপ্ত ছবিতে পাইপলাইনের দুটি পাম্পিং স্টেশনে মারাত্মক ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। জ্বালানি বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'কেপলার'-এর তথ্যমতে, পাইপলাইনটি এক মাস বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে অন্তত ১২ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দেবে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।বর্তমান পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দাব প্রণালি হুথি ও ইরান-সমর্থিত বাহিনীর বাধার মুখে থাকায় বিকল্প রুটগুলোও ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ানবু বন্দরের কৌশলগত মজুত দিয়ে কেবল ৩ থেকে ৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। কেপলারের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান আমেনা বকর এই পরিস্থিতিকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং একাধিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি একটি স্বল্পমেয়াদি ব্যাঘাত। অতীতে ২০১৯ ও ২০২৬ সালের এপ্রিলে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় বড় হামলার পরও দ্রুত অবকাঠামো মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার রিয়াদী দক্ষতা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞ রবিন ব্রুকস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাম্পিং স্টেশনের দ্রুত মেরামত কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই এটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারে।

সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুশ্চিন্তায় বিশ্ববাজার