বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক বলেছেন, ঈদ মিছিলের নামে কোনো বিদআতকে শরীয়ত সমর্থন করে না এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে ইসলামি বিধানে পরিবর্তন আনা প্রতারণার শামিল। জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, নতুন জমানার দোহাই দিয়ে নবী (সা.) সুন্নাহ আদর্শ থেকে ন্যূনতম বিচ্যুতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে ধর্ম বিকৃত করা জায়েজ নেই এবং এটাকে তিনি “সম্পূর্ণ প্রতারণা” হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, অনেক প্রতারণা স্বাধীনতার নামে চালিয়ে দেওয়া হয় এবং তাওহিদের সঙ্গে প্রতারণা শরিয়তে নিষিদ্ধ।খতিব বলেন, হারাম কাজগুলো মুসলমানদের ঈদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। “ঈদ মিছিলের নামে কোনো বিদআতকে শরিয়ত সমর্থন করে না। এগুলো হারাম কাজ”—উল্লেখ করেন তিনি। স্বাধীনতা-অধিকারের নামে শরিয়তে নতুনভাবে সংযোজন-বিয়োজন করা স্পষ্ট হারাম কাজ বলেও মন্তব্য করেন।তিনি আরও বলেন, এসব হারাম কাজ দেখে বিধর্মীরা খুশি হয়, কারণ তারা চায় মুসলমানরা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হোক। সুলতানি আমলের দোহাই দিয়ে ঈদ মিছিলকে জায়েজ করার প্রচেষ্টাকেও তিনি সমালোচনা করে বলেন, এতে মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।বিজাতীয় কোনো সংস্কৃতি ঈদ উৎসবে সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানিয়ে খতিব বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এটা কুফরি স্লোগান।” মুসলিম উম্মতের শরিয়তের ঈদের আগে-পিছে কিছু বাড়ানো-কমানো যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।ঈদের আগের রাতে মেহেদি উৎসবের নামে বিদআত চর্চা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুসলিম হয়েও যারা কুরআন-হাদিসের বাইরে গিয়ে নতুন নতুন বিদআত তালাশ করে, তারা ভ্রান্ত আকিদাকে পুনর্বাসন করতে চায়।খতিব তার বয়ানে বলেন, সাহাবায়ে কেরামের সময়ে কুরআন-হাদিসের বিপরীতে গিয়ে নানা ধরনের ফিতনার সৃষ্টি হয়েছিল, যা তারা নবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ দিয়েই মোকাবিলা করেছিলেন। তিনি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, “তোমরা আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। আমার পরে সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাতকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে।” হেদায়েতের একমাত্র পথ হচ্ছে সুন্নাহ—এ কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।