বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির ও চরমোনাই দরবারের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টায় রাজধানীর মধ্যবাড্ডার নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। হৃদরোগ ও তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার সকালে এক শোকবার্তায় রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক ইসলামি বিভিন্ন মহলে তাঁর ইন্তেকালের খবর জানিয়ে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এবং ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর সাইয়্যেদ মুহাম্মদ ইসহাক (রহ.)-এর তৃতীয় সাহেবজাদা মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক আর নেই। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর মধ্যবাড্ডাস্থ নিজ বাসভবনে হঠাৎ মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে পথিমধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে দলের শীর্ষ নেতার এই অকাল প্রয়াণে শোকবাার্তা প্রকাশ করা হয়। সকালে ঢাকার মধ্যবাড্ডা মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়, যেখানে খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলিম অংশগ্রহণ করেন। এরপর মরহুমের অসিয়ত ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ তাঁর পৈতৃক নিবাস বরিশালের চরমোনাইয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন সম্পন্ন করা হবে।মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক দীর্ঘ জীবন ধরে বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়াহর প্রতিষ্ঠা, আলেমদের ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং দ্বীনি দাওয়াতের প্রসারে নিরলস ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রদানের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইসলামি সামাজিক আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, চরমোনাই দরবারের ভক্ত-অনুরাগী এবং দেশের আলেম সমাজ গভীর শোকাহত। শোকবার্তায় আলেম-ওলামাগণ মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চমর্যাদা কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।