২০০২ সালে ভারতের গুজরাটে মুসলিমবিরোধী পরিকল্পিত দাঙ্গার সময় বর্বরতম নৃশংসতার শিকার হয়েছিলেন বিলকিস বানু। সেই গণহত্যা ও গণধর্ষণের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের অন্যতম রাধেশ্যাম শাহকে সাত দিনের জন্য জামিনে/প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আদেশ জারি করেছে গুজরাট হাইকোর্ট।প্যারোলের মেয়াদ শুরু হবে আসামি কারাগার থেকে মূল মুক্তির দিন থেকে। মুক্ত থাকাকালীন তাকে ১০,০০০ রুপির ব্যক্তিগত মুচলেকা দিতে হবে। এছাড়াও আদালতের প্রদত্ত শর্তানুসারে, মুক্তি পাওয়ার তৃতীয় ও পঞ্চম দিনে তাকে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে হাজিরা দিতে হবে এবং প্যারোলের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই অবিলম্বে কারাকর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, রাধেশ্যাম শাহ তার আবেদনে পরিবারের আর্থিক অনটনের কথা উল্লেখ করে আদালতকে জানায় যে, পরিবারকে আর্থিক সহায়তার কাজে তার উপস্থিতি প্রয়োজন। গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব জে ঠাকর কারাকর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন ও আসামিপক্ষের যুক্তি বিবেচনা করে বিশেষ ক্ষমতাবলে এই প্যারোল মঞ্জুর করেন।অতীত ইতিহাস২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময় উগ্র হিন্দুত্ববাদী দাঙ্গাবাজরা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানুর ওপর পাশবিক গণধর্ষণ চালায়। এ সময় তার চোখের সামনেই ৩ বছরের শিশুকন্যাসহ পরিবারের সাতজন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ আদালত রাধেশ্যাম শাহসহ ১১ জন উগ্রপন্থী আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে বোম্বে হাইকোর্ট এই সাজা বহাল রাখে এবং সুপ্রিম কোর্টও আসামিদের আপিল খারিজ করে দেয়।তবে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে ভারতের স্বাধীনতা দিবসে গুজরাট সরকার তাদের বিতর্কিত মওকুফ নীতির (Remission Policy) অধীনে এই ১১ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কারামুক্তি দিয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে।পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট সরকারের ওই মুক্তির আদেশ বাতিল করে আদেশ দেয় যে, যেহেতু মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া মহারাষ্ট্রে সম্পন্ন হয়েছিল, তাই গুজরাট সরকারের এই সাজা মওকুফ করার কোনো আইনি এখতিয়ার ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের সেই নির্দেশের পর রাধেশ্যাম শাহসহ সব আসামি পুনরায় কারাগারে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।গুজরাট হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এই প্যারোল আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এটি সাজা মওকুফ বা রদ নয়; তবে মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোর মতে, জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আসামিদের বারবার এভাবে সাময়িক মুক্তির সুযোগ দেওয়া ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবারের জন্য নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।