গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ না হলে ঘরবাড়ি খালি করার ও গুপ্তহত্যার হুমকি ইসরাইলের
গাজা উপত্যকার বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোতে শিশুদের সামান্য ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে আবাসিক এলাকা খালি করা এবং গুপ্তহত্যা বা হত্যাকাণ্ড বাড়ানোর নতুন হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে ঘুড়িগুলোতে কোনো ঝুঁকি ছিল না, অথচ এই খেলনাকেই আগ্রাসনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে তেল আবিব।গাজা উপত্যকার তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যেও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শিবিরের শিশুরা একটু মানসিক স্বস্তির খোঁজে ঘুড়ি ওড়ায়। বাতাসের তোড়ে এসব ঘুড়ির সুতা ছিঁড়ে সীমান্ত পেরিয়ে মাঝেমধ্যে ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে গিয়ে পড়ে। তবে অতি সাধারণ এই খেলাধুলোকেই এবার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও উচ্ছেদের অজুহাত বানাতে শুরু করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ যৌথভাবে হুমকি দিয়েছেন যে, গাজা থেকে ঘুড়ি, বেলুন বা ড্রোন উৎক্ষেপণ অব্যাহত থাকলে উক্ত এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হবে এবং তথাকথিত ‘লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড’ (Targeted Killings) বাড়াবে ইসরাইল। রোববার ইসরাইল কাৎজ দাবি করেন, বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, ‘ঘুড়ি ড্রোনের মতোই বিপজ্জনক’।অথচ ইসরাইলি সেনাবাহিনী (IDF) নিজেই নিশ্চিত করেছে যে, গাজা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি ফিলিস্তিনি ঘুড়ি পরীক্ষা করে কোনো বিপজ্জনক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। এ থেকে পরিষ্কার হয় যে, শিশুদের এই ঘুড়িগুলো সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতা বা ঝুঁকি তৈরি করেনি।ইসরাইলের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুমকির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম কাসেম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ফিলিস্তিনি শিশুদের নিরীহ খেলনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর ওপর নতুন করে আগ্রাসন চালানো ও ঘরবাড়ি খালি করার ষড়যন্ত্র করছে ইসরাইল।২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী এই ইসরাইলি হামলায় গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলায় পুরো উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো এবং ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আচরণকে স্পষ্টত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।