বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইস্তাম্বুল উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজ ডুবি, নিখোঁজ ১০ নাবিকের সন্ধানে তল্লাশি

তুরস্কের ইস্তাম্বুলের পশ্চিমে সিলিব্রি উপকূলের কাছে দুই তুর্কি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের সংঘর্ষে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। ‘তুগবের্ক ইমামোগলু’ নামের জাহাজটিতে থাকা ১০ নাবিকের কারও সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড, উপকূলীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তর ও নৌবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য দায়ীদের চিহ্নিত করতে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে।তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোগলু বুধবার জানিয়েছেন, মারমারা সাগরে সিলিব্রি উপকূলের কাছে ডুবে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজের অবস্থা নির্ণয় এবং সেটি উদ্ধার করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে বিশেষায়িত দল ডুবুরি অভিযান পরিচালনা করবে।ইস্তাম্বুলের পশ্চিমে সিলিব্রির কাছে তুরস্কের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের পর ‘তুগবের্ক ইমামোগলু’ জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে ১০ জন নাবিক ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।মন্ত্রী উরালোগলু জানান, কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সময় আনুমানিক ভোর ৩টা ১৫ মিনিটে জাহাজ দুটির সংঘর্ষের খবর পায়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের প্রায় ১১ মিনিটের মধ্যেই একটি জাহাজ ডুবে যায়।তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই উপকূলীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে আকাশ ও সমুদ্রপথে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।নিখোঁজ ১০ নাবিকের কারও সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রী।উদ্ধার অভিযানে সমুদ্রের গভীরতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। উরালোগলু বলেন, ওই এলাকার গভীরতা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলছে। তবে তুর্কি নৌবাহিনীর প্রায় ১ হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত ডুব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থলে একটি বিশেষায়িত জাহাজ পাঠানো হয়েছে। ডুবন্ত জাহাজটির বর্তমান অবস্থা নির্ণয় এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার বিশেষ ডুবুরি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।এদিকে, সিলিব্রির সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সংঘর্ষের পর ‘তুগবের্ক ইমামোগলু’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ ১০ নাবিকের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, এর প্রকৃত কারণ কী এবং সম্ভাব্য দায়ী ব্যক্তিরা কারা—তা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য দুটি জাহাজের নেভিগেশন, রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার রেকর্ড সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা-সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য, নথি, ছবি ও প্রমাণও সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।এর আগে বুধবার সকালে ইস্তাম্বুল গভর্নরেট জানায়, মারমারা সাগরে তুরস্কের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের পর একটি জাহাজের ১০ নাবিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।বর্তমানে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান ও সম্ভাব্য উদ্ধার কার্যক্রমই কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলছে।

ইস্তাম্বুল উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজ ডুবি, নিখোঁজ ১০ নাবিকের সন্ধানে তল্লাশি