শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইরানি তেল বাণিজ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে বেইজিংয়ের ‘ব্লকিং অর্ডার’

ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানির অভিযোগে পাঁচটি চীনা পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বেইজিং। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মার্কিন এই পদক্ষেপকে ‘বহির্দেশীয় আইন প্রয়োগ’ ও আন্তর্জাতিক রীতির লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে এর কার্যকারিতা ঠেকাতে একটি আনুষ্ঠানিক ‘ব্লকিং অর্ডার’ জারি করেছে। বেইজিংয়ের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সার্বভৌম অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা অবরোধের তোয়াক্কা না করে দেশটির কাছ থেকে অশোধিত তেল ক্রয় অব্যাহত রাখায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কড়া অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন। সম্প্রতি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে চীনের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (দালিয়ান)শানডং শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যালশানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপহেবেই শিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপশানডং শেংশিং কেমিক্যালচীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বেইজিংয়ের মতে, ওয়াশিংটনের জারি করা একতরফা নিষেধাজ্ঞা সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বেইজিং এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালার সরাসরি পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছে।চীনা ভূখণ্ড ও তার স্বায়ত্তশাসিত বাণিজ্যে মার্কিন আইনের বহিরাগত প্রয়োগ রোধে দেশটির নিজস্ব ‘ফরেন অ্যাগ্রেশন প্রটেকশন’ কাঠামোর আওতায় এই ঐতিহাসিক ‘ব্লকিং অর্ডার’ জারি করা হলো। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো চীনের মূল সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ বাণিজ্যিক অধিকার সুনিশ্চিত করা।আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই নতুন অবস্থান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিকার মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের বেসরকারি ও স্বাধীন তেল শোধনাগার বা তথাকথিত ‘টিপট’ খাত দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা ইরানের তেলের ওপর নির্ভরশীল। বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনীতিকে সংকুচিত করার উদ্দেশ্যে বারবার এই রিফাইনারিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিলেও, চীন এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে আইনগত 'ব্লকিং অর্ডার' জারি করে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলল।ইরানের মতো একটি মুসলিম দেশের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের মার্কিন নীতিকে চীনের এই পদক্ষেপ সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যবর্তী এই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ কেবল পূর্ব এশিয়ায় নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যুক্ত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরানি তেল বাণিজ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে বেইজিংয়ের ‘ব্লকিং অর্ডার’