মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

রোহিঙ্গাদের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ডব্লিউএফপি-কে ৫০ লাখ ডলার দিল দক্ষিণ কোরিয়া

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি সেবা এবং জরুরি শিক্ষা-খাদ্য কর্মসূচি সচল রাখতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) অনুদান দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ২১ সেপ্টেম্বর ডব্লিউএফপির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচরের সাড়ে চার লাখেরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী উপকৃত হবেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তহবিল ঘাটতির এই সংকটকালে সিউলের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি মানবিক ভূমিকা পালন করবে।মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ গণহত্যা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। জাতিসংঘের এই সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, প্রাপ্ত এই অর্থ সরাসরি ৪ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের মৌলিক খাদ্য ও স্বাস্থ্য চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হবে।দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আগেই এই বিশেষ অর্থায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প এবং ভাসানচরে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে নানা যুদ্ধ ও সংকটের কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলে মারাত্মক টানাটানি দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার এই মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গাদের চরম অনাহার ও পুষ্টিহীনতার হাত থেকে রক্ষায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।নারী ও শিশুদের পুষ্টিতে বিশেষ নজরডব্লিউএফপি জানিয়েছে, কোরিয়ান এই অনুদানের আওতায় ক্যাম্পগুলোর ৩৬ হাজারের বেশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মাকে বিশেষ পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হবে। অপুষ্টি শনাক্তকরণ পরীক্ষার পর এসব মা ও শিশুকে পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে।পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের লার্নিং সেন্টারগুলোতে অধ্যয়নরত ২ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে 'স্কুল ফিডিং' কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাঠদান চলাকালীন শিশুদের উচ্চ-পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ করা হবে, যা শিশুদের শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি লার্নিং সেন্টারে তাদের নিয়মিত উপস্থিতিতে উৎসাহিত করবে।'রিচ' প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তাএই অর্থায়ন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ফ্ল্যাগশিপ মানবিক উদ্যোগ ‘রেসপন্ডিং উইথ ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর কনফ্লিক্ট-অ্যাফেক্থেড হাউসহোল্ডস’ (রিচ)-এর দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে সরাসরি সাহায্য করবে। ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো তাদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্যাংশ বাজার থেকে সংগ্রহ করতে পারছে, যা তাদের আত্মমর্যাদা রক্ষা ও পুষ্টির মান নিশ্চিত করছে।বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, "একসময় আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকা কোরিয়া প্রজাতন্ত্র আজ বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত। দক্ষিণ কোরিয়া আন্তর্জাতিক মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ডব্লিউএফপির সাথে কাজ করে যাবে।"বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা সংকট ১০ম বছরে পদার্পণের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেন, "আন্তর্জাতিক সহায়তার অপ্রতুলতা রোহিঙ্গা সংকটে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবন রক্ষা, মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।"মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সহিংসতায় ঘরবাড়ি হারানো এই মজলুম মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্থায়ী ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনই মূল সমাধান। তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অনাগ্রহ ও আঞ্চলিক উগ্র হিন্দুত্ববাদী বা উগ্রপন্থী রাষ্ট্রগুলোর নেতিবাচক ভূমিকার কারণে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর খাদ্য ও মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গাদের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছে।

রোহিঙ্গাদের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ডব্লিউএফপি-কে ৫০ লাখ ডলার দিল দক্ষিণ কোরিয়া