সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

দক্ষিণ লেবাননে এক হাজার টন বিস্ফোরক দিয়ে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের

দক্ষিণ লেবাননের আলি তাহের রিজে এক হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করে হিজবুল্লাহর একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সামরিক কমপ্লেক্স ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী। বৃহস্পতিবার সংঘটিত এই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ভূকম্পন সৃষ্টি করে, যা মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে। এ হামলার মাধ্যমে ইসরাইল লেবাননের সীমান্ত এলাকায় বেআইনি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবি করলেও বাস্তবে তা পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ও বেসামরিক মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।বিস্ফোরণের ভয়াবহতা ও স্থানচ্যুত মানুষের আতঙ্কইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পরপরই আকাশজুড়ে বিকট আগুনের গোলা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। আইডিএফের দাবি, দুই কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট দুটি সুড়ঙ্গসহ বিশাল স্থাপনাটি ধ্বংস করতেই এ বিপুল বিস্ফোরক প্রয়োগ করা হয়।ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাবাতিয়েহ শহরের বাসিন্দা আহমেদ জানান, বিস্ফোরণের প্রায় ১৫ সেকেন্ড পর বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ঘরবাড়ি প্রবলভাবে দুলতে থাকায় আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে; চারিদিকে শিশুদের কান্না ও স্বজনদের চিৎকার ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত বহু মানুষ দ্রুত বৈরুতের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। আলি তাহের রিজ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় শহর সাইদাতেও এই বিস্ফোরণের প্রচণ্ড কম্পন অনুভূত হয়।ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ও আইডিএফের দাবিআইডিএফের ভাষ্যমতে, ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাটি হিজবুল্লাহর ‘বদর ইউনিট’-এর কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে রকেট, ড্রোন, ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, মাইন ও বিস্ফোরকের বড় মজুত ছিল। তাদের দাবি, ইরানের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় গত দুই দশক ধরে এই কাঠামোটি গড়ে তোলা হয়েছিল। এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি ধ্বংসের মাধ্যমে ওই এলাকায় আটটি সুড়ঙ্গ নির্মূল এবং একটি তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ার কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। তবে এসব দাবির বিপরীতে হিজবুল্লাহ কিংবা লেবানন সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।দক্ষিণ লেবাননে চড়াও উত্তেজনা ও সার্বিক পরিস্থিতিগত মার্চে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তৃত অংশ দখল করে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। আলি তাহের রিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বৃহস্পতিবারও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এবং টায়ার জেলার মানসুরিতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। অপরদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লেবাননের সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলগুলোতে সেনা মোতায়েন জোরদার করেছে।সংঘাতের পটভূমি ও মানবিক বিপর্যয়গত ২ মার্চ সংঘাত শুরুর পর থেকে লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। জুনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত অন্তত ৪,৩৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ৩৯৫ জন নারী এবং ২৫৯ জন নিষ্পাপ শিশু রয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতার সুযোগে পরিচালিত এই হামলায় দক্ষিণ লেবাননের উর্বর ভূমি ও বেসামরিক লোকালয় প্রতিনিয়ত বিরানভূমিতে পরিণত হচ্ছে।

দক্ষিণ লেবাননে এক হাজার টন বিস্ফোরক দিয়ে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের