মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

নোবেলজয়ী নাভানিথাম নাভি পিল্লাইকে মোদির অভিনন্দন না জানানোর পেছনে কি ফিলিস্তিন ইস্যু?

বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কোনো ভারতীয় বংশোদ্ভূত বা হিন্দু ধর্মের ব্যক্তি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে সাধারণত পুরো ভারতজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে তাতে নেতৃত্ব দেন। তবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী নাভানিথাম 'নাভি' পিল্লাইয়ের ক্ষেত্রে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থানের কারণেই কি নরেন্দ্র মোদি সরকার এই ঐতিহাসিক অর্জনে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে—এই প্রশ্নই এখন জোড়ালোভাবে উঠেছে।সাধারণত বিদেশে কোনো ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কৃতিত্ব অর্জন করলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বমহল থেকে অভিনন্দন বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার তামিল বংশোদ্ভূত হিন্দু নারী নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর ভারত সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের অভিনন্দন জানানো হয়নি।বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও লেখক ড. জাভেদ জামিল তাঁর সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে এই প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন একজন ব্যক্তির প্রতি কোনো শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাবেন না যিনি আন্তর্জাতিক ফোরামে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার তীব্র সমালোচনা করেছেন। পিল্লাই জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন।এছাড়া, ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি, আফস্পা (AFSPA) আইনের প্রয়োগ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব ও নীতি নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে নাভি পিল্লাইয়ের দফায় দফায় মতপার্থক্য ও সমালোচনা হয়েছিল। ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও ইহুদি সংগঠনগুলো তাঁর এই মানবাধিকারমূলক ভূমিকার বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে।বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় সরকার ও গণমাধ্যমগুলো যদি মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই পুরস্কার পেতেন, তবে যুদ্ধ ও অভিবাসন সংক্রান্ত মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান সত্ত্বেও বড় ধরনের উৎসব শুরু করত। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার জীবন বাঁচানোর সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উভয়েই তাঁকে টেলিফোনে প্রশংসা করলেও, বিশ্বমানের এই নোবেল বিজয়ী নারীর জন্য মোদিজির পক্ষ থেকে কোনো ফোন বা বার্তা আসেনি।মার্কিন কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তায়েব নাভি পিল্লাইয়ের এই অর্জনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নেলসন ম্যান্ডেলার পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে রুয়ান্ডা ও মিয়ানমারের গণহত্যার বিচার এবং গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান বিশ্ববাসীর জন্য অনুপ্রেরণা। অথচ ভারত সরকারের এই নীরবতা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত হিসাব-নিকাশ অনেক সময় নীতি ও মানবতার স্বীকৃতিকেও আচ্ছন্ন করে ফেলে।

নোবেলজয়ী নাভানিথাম নাভি পিল্লাইকে মোদির অভিনন্দন না জানানোর পেছনে কি ফিলিস্তিন ইস্যু?