ভারতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানোয় সার্বভৌম মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার প্রেক্ষিত থেকেই এই কঠোর কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।ভারতে আয়োজিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একজন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে সম্মান জানানোর পরিবর্তে বিমসটেকের ঘূর্ণায়মান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পথ সুগম করতে চেয়েছিল নয়াদিল্লি। বাংলাদেশ একে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ব্যত্যয় ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অনীহা হিসেবে বিবেচনা করে সম্মেলন বর্জনের পথ বেছে নিয়েছে।বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও মানবিক সংকট বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের ফাঁকে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেক চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে তাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সম্মানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকবে না।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের গুণগত পরিবর্তন এবং সম্পূর্ণ 'অনুকূল ও সম্মানজনক পরিবেশ' তৈরি হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। এর আগে সার্বভৌম মর্যাদা রক্ষা না করে কোনো সফর সম্ভব নয়।উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনাকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেয় ভারত। বাংলাদেশের জনগণের গণ-আকাঙ্ক্ষাকে তোয়াক্কা না করে স্বৈরাচারকে আশ্রয় ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রদান করায় দীর্ঘদিনের মিত্র ভারতের সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কে গভীর টানাপোড়েন তৈরি হয়। এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের হঠাৎ কিছু কূটনৈতিক নড়াচড়া ও অস্পষ্ট আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছে।আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের বর্তমান দূরদর্শী ও শক্ত কূটনৈতিক অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। ঢাকা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—আঞ্চলিক সহযোগিতা বজায় থাকলেও কোনো প্রতিবেশীর আধিপত্যবাদী বা অসম্মানজনক আচরণ মেনে নেওয়া হবে না।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।