শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

বেঙ্গালুরুতে ‘অবৈধ প্রবাসী’ সন্দেহে বাংলাদেশি দম্পতিকে চিকিৎসকের মারধর, গ্রেফতারের পর জামিন

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে কেবল নাগরিকত্ব ও ‘অবৈধভাবে বসবাসের’ সন্দেহে এক বাংলাদেশি তরুণ দম্পতিকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ড. নাগেন্দ্রকে গ্রেফতার করে পরে আদালতে তোলা হলে তিনি জামিন পান। ভুক্তভোগী ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা বিলাল ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বিলালের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। বেঙ্গালুরুর বেলান্দুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, কোনো প্রবাসীর বৈধতা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি দম্পতির ওপর এক চিকিৎসকের নির্মম হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ভারতে প্রবাসী ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বাড়তে থাকা উগ্র বিদ্বেষ ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাম্প্রতিক প্রবণতার অংশ হিসেবেই ঘটনাটিকে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।ঘটনাটি ঘটে বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড সংলগ্ন বেট্টাদাসাপুরা এলাকায়। ভুক্তভোগী ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা বিলাল এবং তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বিলাল কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয় ‘সাই ক্লিনিক’-এর চিকিৎসক ড. নাগেন্দ্র তাদের সঙ্গে নাগরিকত্ব ও ভারতে থাকার বৈধতা নিয়ে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে ওই চিকিৎসক দম্পতির শারীরিক ওপর চড়াও হন এবং তাদের বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।ঘটনার পর নাসরিনা বিলাল স্থানীয় বেলান্দুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ অভিযুক্ত ড. নাগেন্দ্রকে হেফাজতে নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে। তবে পরবর্তীতে স্থানীয় আদালতে তোলা হলে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় অবৈধ বিদেশিদের উপস্থিতির বিষয়ে ড. নাগেন্দ্রর মনে অসন্তোষ বা সন্দেহ ছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে কোনো বিদেশী নাগরিকের অবস্থান বৈধ কি অবৈধ—তা যাচাই করার একমাত্র এখতিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। একজন চিকিৎসক বা সাধারণ নাগরিক নিজে থেকে কাউকে আইন প্রয়োগের নামে হেনস্তা বা হামলা করতে পারেন না।বর্তমানে পুলিশ দুটি বিষয়ে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে—একদিকে চিকিৎসক কর্তৃক সংঘটিত হিংসাত্মক হামলার বিচার নিশ্চিত করা, এবং অন্যদিকে বাংলাদেশি দম্পতির ভ্রমণ ও অবস্থান সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা।ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী ও বাংলাভাষী সংখ্যালঘুদের "অবৈধ বাংলাদেশি" তকমা দিয়ে হেনস্তা করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই ঘটনাটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় মারাত্মক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বেঙ্গালুরুতে ‘অবৈধ প্রবাসী’ সন্দেহে বাংলাদেশি দম্পতিকে চিকিৎসকের মারধর, গ্রেফতারের পর জামিন