ফিলিস্তিনি বন্দীদের জন্য ফাঁসি মঞ্চ নির্মাণ করছেন বেন গভির
ইসরায়েলের উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও চরমপন্থী সিয়নবাদী নীতিমালার ধারক, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ফিলিস্তিনি বন্দীদের জন্য একটি ফাঁসি মঞ্চ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে চরম দম্ভ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি একটি নির্মাণাধীন স্থান দেখিয়ে দাবি করেন, এখানেই ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলি সংসদে বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড বিল পাসের পর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।ফিলিস্তিনি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য একটি বিশেষ কেন্দ্র ও ফাঁসি মঞ্চ নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশ্যে সগর্ব কথা বলেছেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি একটি সক্রিয় নির্মাণস্থলের দিকে ইঙ্গিত করে এই অমানবিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।ভিডিওতে বেন গভির দাবি করেন, এই কমপ্লেক্সে একটি বিশেষ "দর্শন কক্ষ" থাকবে, যেখানে ইসরায়েলিরা এসে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারবে। বিরোধীদের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, যারা তার এই পরিকল্পনা নিয়ে একসময় হাসি-ঠাট্টা করেছিল, তারা এখন স্বচক্ষে ফাঁসি মঞ্চ গড়ে উঠতে দেখছে।চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলি সংসদ ‘নেসেট’-এ ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইন পাস হয়। বর্ণবাদ ও বৈষম্যমূলক এই আইনটির মূল পৃষ্ঠপোষক বেন গভিরের দল ‘ওৎজমা ইয়েহুদিৎ’। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, এই আইনটি কেবল ফিলিস্তিনিদের ওপরই প্রয়োগ করা হবে, কোনো ইহুদি নাগরিকের ওপর নয়। আইন অনুযায়ী, ইসরায়েল কারা পরিষেবা (আইপিএস)-এর অধীনে রায় ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করা হবে।সম্প্রতি গাজায় আটক থেকে মুক্ত হওয়া এক সাবেক ইসরায়েলি সেনা ফিলিস্তিনিদের নিজ হাতে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বেন গভির তাকে সেই সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং মন্তব্য করেন যে, ফিলিস্তিনি বন্দীদের "বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।"বেন গভিরের এই আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জার্মান উপ-চ্যান্সেলর লার্স ক্লিঙ্গবিল তার বক্তব্যকে "অমানবিক" আখ্যা দিয়ে ইইউ-এর প্রতি বেন গভিরের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।অন্যদিকে, ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বি'ৎসেলেম’ (B'Tselem) জানিয়েছে, ইসরায়েল ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনিদের ওপর চরম নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছে। বি'ৎসেলেম-এর মতে, বেন গভিরের অধীনে কারা ব্যবস্থা এখন সরাসরি "নির্যাতন শিবিরে" পরিণত হয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের পর থেকে অন্তত ১০৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দি নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।