তাকওয়া অর্জন ও আত্মশুদ্ধির আহ্বানে শেষ হলো চরমোনাই মাহফিল
বরিশালের চরমোনাই মাদরাসা প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ফাল্গুনী মাহফিল আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে সমাপনী অধিবেশনে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আহ্বান জানান। মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় না থাকলে পীর বা আলেম হওয়ার কোনো সার্থকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এই মাহফিল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। গত বুধবার বাদ জোহর আমীরুল মুজাহিদীন মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে এই আধ্যাত্মিক মহাসমাবেশ শুরু হয়েছিল।আখেরি মোনাজাতের পূর্বে বয়ানে চরমোনাই পীর বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ আল্লাহকে ভুলে অহরহ নাফরমানিতে লিপ্ত হচ্ছে। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, "দিল থেকে বড়ত্ব, আমিত্ব ভাব এবং তাকাব্বুরি বা অহংকার সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে হবে। নিজেকে ছোট মনে করার মধ্যেই প্রকৃত সফলতা।" তিনি রাগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ঘোড়ার মুখের লাগামের উদাহরণ টেনে বলেন, ক্রোধ ও হিংসা পরিহার করে সকাল-সন্ধ্যা জিকিরের মাধ্যমে কলব বা অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। বিশেষ করে গিবত বা পরনিন্দার মতো মারাত্মক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য তিনি ভক্তদের কঠোর নির্দেশনা দেন।মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়ত উল্লাহ জানান, এবারের মাহফিলে পীর সাহেবের হাতে হাত রেখে দুইজন অমুসলিম ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তবে মাহফিল চলাকালীন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন—নরসিংদীর এমদাদুল হাসান (৮৬) এবং টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তালহা (২২)। জানাজা শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। চরমোনাই পীর ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান ও লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। মোনাজাতে অংশ নেওয়া হাজার হাজার মুসল্লির আমিন আমিন ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে।