ইস্তাম্বুলে ‘ফিলিস্তিন সংহতি দিবস’ পালন: শিশুদের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও বিশেষ প্রদর্শনী
ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের সাথে সংহতি জোরদার এবং জেরুজালেম (কুদস) ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের উস্কুদার স্কয়ারে 'ফিলিস্তিন সংহতি দিবস' (Palestine Solidarity Days) শীর্ষক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ব্লু মারমারা ফ্রিডম অ্যান্ড সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের (Mavi Marmara Özgürlük ve Dayanışma Derneği) নেতৃত্বে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় এ কর্মসূচি উদযাপিত হচ্ছে। এই আয়োজনে আলোচনা সভা, কনসার্ট, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশুদের কর্মশালা এবং গাজার চিকিৎসাসেবা পুনর্বাসনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক উস্কুদার স্কয়ারের ইয়েনি ভালিদে মসজিদের সামনে এ বিশেষ সংহতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, গবেষক, অ্যাক্টিভিস্ট, শিল্পী এবং সাধারণ পরিবার ও শিশুরা অংশ নেন। আয়োজনের অংশ হিসেবে বিখ্যাত গালাতা টাওয়ারকেও ফিলিস্তিনের পতাকার রঙে সাজানো হয়।অনুষ্ঠানস্থলে 'মিনিয়া কুদস ট্রাক'-এর মাধ্যমে দর্শনার্থীদের কাছে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া গাজায় শিক্ষাক্ষেত্রে তৈরি হওয়া চরম সংকটের চিত্র তুলে ধরতে ফিলিস্তিন বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সচেতনতামূলক বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। একইসাথে দর্শনার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে '+১৮ গাজা সিমুলেশন ভিআর (VR) অভিজ্ঞতা' ও ডিজিটাল মেমোরি ভিজ্যুয়ালাইজেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সচেতনতা তৈরিতে চিত্রাঙ্কন, কালারিং ওয়ার্কশপ, মেমরি গেম, গল্প বলা ও প্ল্যাকার্ড তৈরির মতো বিশেষ আয়োজন রাখা হয়।স্কয়ারের তাবুগুলোতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে নানা পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, এসব স্টল থেকে অর্জিত সমস্ত অর্থ গাজার শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গাজা স্ট্রিপের আল-শিফা হাসপাতালের পুনর্নির্মাণ ও মানবিক সহায়তা তহবিলে প্রদান করা হবে।উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্লু মারমারা অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য একরেম কুবিলয় কারাদেনিজ বলেন, 'আজ থেকে তিন বছর আগে ইসরায়েল গাজাকে মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলার নীলক নকশা বাস্তবায়ন শুরু করেছিল। তবে ফিলিস্তিনের অদম্য জনগণ সেই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তারা প্রমাণ করেছে সত্য ও ঈমানের বলে বলীয়ান স্বল্পসংখ্যক মানুষও বিপুল সংখ্যাধিক অত্যাচারীর ওপর বিজয়ী হতে পারে।'তিনি আরও বলেন, 'গাজায় আজ নজিরবিহীন গণহত্যা চলছে, যা আমাদের হৃদয়কে রক্তাক্ত করে। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা তাদের স্বাধীনতার বিশ্বাস ও প্রতিরোধের স্পিরিট হারায়নি। ৭ অক্টোবরের ঘটনা বিশ্বমঞ্চ থেকে মিথ্যা আড়াল উন্মোচন করে দিয়েছে এবং ইসরায়েল যে কতটা জঘন্য ও বর্বর সন্ত্রাসী শক্তি তা বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট করেছে।'এই সংহতি মেলা আয়োজনে ব্লু মারমারা অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি ইয়ারিউজু চিলড্রেন অ্যাসোসিয়েশন, উমুত ওল, সেনাবিল, বেইতুল মাকদিস পাইওনিয়ার্স, মারুফ এডুকেশন কালচার অ্যান্ড আর্ট, ভিসাল অ্যাসোসিয়েশন, বয়কট ডিটেকটিভ, তুর্কিইয়েম.কম, মুদাফা-ই ইসলাম মুভমেন্ট এবং কুদস শপসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে কাজ করছে। মেলাটি আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।