বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের; বাগদাদ সফরে যাচ্ছেন গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অত্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি আমেরিকান নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার ওপর জোর দেন। এ ঘোষণার পরপরই আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরাক সফরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় ইরানের মূল প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তাদের আগের প্রতিশ্রুতিগুলো না মানা পর্যন্ত সামরিক ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে গালিবাফ বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত মার্কিন প্রতিশ্রুতিসমূহ—বিশেষ করে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ আনফ্রিজ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না।”ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতির টানাপোড়েনের মধ্যে গালিবাফ একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে বুধবার প্রতিবেশী ইরাক সফরে যাবেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, তেহরান ও বাগদাদের মধ্যকার কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনতে যৌথ সমাধান খুঁজে বের করা।গালিবাফের এই বাগদাদ সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইরাক সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চরম আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। ওয়াশিংটন ইরাকি ভূখণ্ডে সক্রিয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রভাবশালী ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুত নিরস্ত্র করার তাগিদ দিয়ে আসছে। বাগদাদে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে রাখা এই প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেষ সময়সীমা দিয়েছে ইরাক সরকার, যা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন সমাপ্তির সাথেই নির্ধারিত হয়েছে।আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখা এবং প্রতিবেশী ইরাকের সাথে কৌশলগত সমঝোতা জোরদার করার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ বজায় রাখতে চাইছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন বহুমুখী সামরিক সংকটের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের; বাগদাদ সফরে যাচ্ছেন গালিবাফ