শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের আঙুর বাগান লুট করছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণ অঞ্চলে ফিলিস্তিনি কৃষকদের মালিকানাধীন বাগান থেকে প্রকাশ্যে আঙুর চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী পরিবার। ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতিতেই এই লুটপাট চালানো হয় এবং ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করতে আসা মানবাধিকার কর্মীদের উপর উল্টো সেনাবাহিনী ও পুলিশ চড়াও হয়। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পশ্চিম তীরের হালহুল শহরে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের এক নতুন চিত্র সামনে এসেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় হালহুল শহরে। সেখানে একটি চরমপন্থী ইসরায়েলি পরিবারকে ফিলিস্তিনিদের বাগান থেকে প্রকাশ্যে আঙুর চুরি করতে দেখা গেছে।ইসরায়েল বিরোধী দল 'ডেমোক্রেটিক পার্টি'-র সদস্য গিলাদ কারিভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, চরমপন্থী এক বসতি স্থাপনকারী তার স্ত্রী ও চার সন্তানসহ অন্যান্য বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ে ফিলিস্তিনি কৃষকদের আঙুর বাক্সে ভরে নিজেদের গাড়িতে তুলছেন। গিলাদ কারিভ ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারী দলগুলোর আসল রূপ ঠিক এমনই হয়। ফিলিস্তিনি কৃষকদের বাগান থেকে ফসল চুরি করতে বাবা-মায়েরা তাদের ছোট সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়ে আসছে।"ভিডিও চিত্রে আরও দেখা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে একটি ইসরায়েলি সামরিক যান উপস্থিত হয়। তবে তারা চোরদের আটক না করে উল্টো ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করতে আসা ইসরায়েলি বামপন্থী গোষ্ঠী 'রিজার্ভ এগেইনস্ট টেরর'-এর সদস্যদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে।সেনাবাহিনী এলাকাটিকে সামরিকভাবে অবরুদ্ধ ঘোষণা করার একটি আদেশ দেখায়। কারিভ জানান, এই আদেশটি মূলত কাছেই অবস্থিত একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি চৌকির সুরক্ষার জন্য ছিল, ফিলিস্তিনিদের আঙুর বাগানের জন্য নয়। কিন্তু সেনাবাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই আদেশ প্রয়োগ করে ফিলিস্তিনি কৃষক ও মানবাধিকার কর্মীদের বিতাড়িত করে। তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে 'পক্ষপাতিত্ব ও কারসাজির' অভিযোগ এনে অবৈধ বসতি চৌকিগুলোর দুষ্কৃতকারীদের মদত দেওয়ার সমালোচনা করেন।অন্যদিকে, ইসরায়েলি বামপন্থী কর্মী আভিয়াদ হোমিনার-রোজেনব্লুম জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণে তারা ফিলিস্তিনি কৃষকদের রক্ষা করতে 'সন্ত্রাস প্রতিরোধকারী' দলের অংশ হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। কৃষকরা প্রায়ই তাদের বাগান থেকে চুরি হওয়া আঙুর পার্শ্ববর্তী মোড়ে বিক্রি হতে দেখেন।রোজেনব্লুম বলেন, "আমরা সেখানে পৌঁছালে দেখতে পাই বাবা, মা ও চার ছোট সন্তানসহ এক পরিবার অন্যায়ভাবে অন্যের আঙুর বাগানে কাজ করছে এবং প্রচুর পরিমাণে আঙুর চুরি করে তাদের গাড়িতে তুলছে।" আন্দোলনকারীরা তাদের থামানোর চেষ্টা করলে পরিবারের প্রধান চিৎকার করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে হামলা ও হয়রানির অভিযোগ তোলেন।ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ডার ফিলিস্তিনিদের ফসল কাটার সামান্য সময়টুকুও না দিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা ফিরে এসে দেখেন, তাদের গাড়ির টায়ার কেটে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পার্শ্ববর্তী বসতি খামারের দিক থেকে আসা একটি 'রেঞ্জার' গাড়ি থেকে টায়ারগুলো কাটা হয়। এই রেঞ্জার গাড়িগুলো মূলত ইসরায়েলি চরমপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং বসতি মন্ত্রী ওরিত স্ট্রকের দেওয়া সরকারি বাজেটে কেনা।সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে আসা ইসরায়েলি পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে ফিলিস্তিনি ভূমিতে অনুমোদনের বাইরে প্রবেশের অজুহাতে মানবাধিকার কর্মীদের পরিচয়পত্র বাজেয়াপ্ত করে এবং তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়। রোজেনব্লুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এখানে কোনো আইন বা বিচার নেই। চোর ও অপরাধীরা রাষ্ট্রের আড়ালে যা খুশি তা-ই করছে, আর যারা বাধা দিতে চায় তারা সহিংসতা ও প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হচ্ছে।"উল্লেখ্য, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৫৬টি অবৈধ বসতি ও ৩৬০টি চৌকিতে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করে। ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে এরা প্রতিদিন পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র নিন্দার মুখোপক্ষে পড়েছে।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের আঙুর বাগান লুট করছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা