হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নজিরবিহীন হ্রাস: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের তীব্র শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত ও স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক পণ্য ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। গত সোমবার ওমান উপসাগরের দিক থেকে মাত্র একটি বড় গ্যাসবাহী জাহাজ এই সরু জলপথ অতিক্রম করেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বনিম্ন। আন্তর্জাতিক শিপিং ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাম্প্রতিক চরম আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণেই বিশ্ব বাণিজ্যের এই প্রাণভোমরায় জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের এই অন্যতম প্রধান নৌপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।[TECHTARANGA-POST:7875]জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বৈশ্বিক সংস্থা কেপলারের প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, গত সোমবার পুরো দিনে ওমান উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালিতে মাত্র একটি বড় গ্যাসবাহী জাহাজ প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছে। এর আগের দিন রোববারও মাত্র ছয়টি জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। চলতি মাসের বিভিন্ন সময়ে এই নৌপথে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এলেও, সোমবারে তা নজিরবিহীন নিম্নপর্যায়ে পৌঁছায়।তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তব চিত্র কেপলারের তথ্যের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কারণ চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করছে। ফলে দৃশ্যমান তথ্যের বাইরেও কিছু জাহাজের আনাগোনা থাকতে পারে।পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে ইরানের সাম্প্রতিক এক কঠোর পদক্ষেপে। তেহরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি ও সংলগ্ন জলসীমায় চলাচলকারী ৪৫টি আন্তর্জাতিক ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। একই সাথে এসব জাহাজের ওপর চড়া জরিমানা, জব্দকরণ এবং আটকে রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। এই হুমকির পর থেকে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের নাবিক ও কোটি কোটি ডলার মূল্যের জাহাজের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা এশিয়া ও ইউরোপসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।