রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েল বয়কটকারী মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়ন বন্ধে বিল পাস

ইসরায়েল বিরোধী বয়কট আন্দোলন (বিডিএস) ও তেল আবিবের সাথে শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি রদ্দের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ একটি নতুন বিল পাস করেছে। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন 'প্রটেক্ট ইকোনমিক অ্যান্ড একাডেমিক ফ্রিডম অ্যাক্ট' নামক বিলটি ২৩৭-১৬৯ ভোটে পাস হয়। বিলটিতে বলা হয়েছে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলকে বয়কট করবে বা বিনিময় কর্মসূচি প্রতিহত করবে, তারা কোনো কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল তহবিল পাবে না।মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই বিতর্কিত বিলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারি অনুদান ও শিক্ষার্থী সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রতি বছর অঙ্গীকার করতে হবে যে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো অর্থনৈতিক বা একাডেমিক বয়কটে অংশ নিচ্ছে না।বিলটি পাসের পক্ষে ভোট দেন ২০৩ জন রিপাবলিকান ও ৩৩ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য। বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একাংশ বিলটির বিরোধিতা করলেও ৩৩ জন সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এতে সমর্থন ব্যক্ত করেন। অপরদিকে রিপাবলিকান পার্টির দুজন সদস্য এই বিলের বিপক্ষে অবস্থান নেন।গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন প্রবল হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদের মুখে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র সংগঠন ইসরায়েলকে বয়কট করার দাবি জানায়। ফিলিস্তিনের ওপর চলা এই জুলুমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার কণ্ঠ স্তব্ধ করতেই এই বিলটি আনা হয়েছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার ও বাক্স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো।শিক্ষা সংক্রান্ত কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য ও নাগরিক অধিকার কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে সরাসরি হরণ করে। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেরোল্ড নাডলারসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য বিলটিকে মার্কিন শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন।প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া বিলটি এখন মার্কিন সিনেটে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে। সিনেটে অনুমোদিত হয়ে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক স্বাক্ষরিত হলে এটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হবে, যা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তিকে বিপর্যস্ত করতে পারে।

ইসরায়েল বয়কটকারী মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়ন বন্ধে বিল পাস