বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে আগামী জানুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গত সপ্তাহে বিতর্কিত ওই পদ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পদত্যাগ করার পর এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো।আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য খাতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির ছায়া দূর করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরবর্তী নির্বাচনে মালদ্বীপের প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিশ্চিত করেন যে, বিতর্কিত নিয়োগ ও নানাবিধ অনিয়মের কারণে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই পদের সাবেক প্রধান সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল। উপযুক্ত অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্য যোগ্যতা ছাড়াই কেবল ক্ষমতাসীন পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবে এই পদে তাকে বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উত্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী।মি. কবির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সায়মা ওয়াজেদের মতো ব্যক্তির নিয়োগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক ভোট বাগানোর সংস্কৃতি বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি আরো যোগ করেন, শেখ পরিবারের সাথে জড়িত প্রতিটি স্তরের দুর্নীতির চিত্র আজ উন্মোচিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কঠোর ও স্বচ্ছ করা, যাতে কেবল স্বজনপ্রীতির ওপর ভর করে কেউ এমন দায়িত্বশীল পদে বসতে না পারে।ন্যায্য অধিকার, মানবাধিকার ও বিশ্বসংস্থায় মেধার মূল্যায়নের নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ আগামী জানুয়ারির নির্বাচনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নে নির্ভরযোগ্য ভূমিকা রাখতে মালদ্বীপের যোগ্য প্রার্থীর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।