ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম জ্যেষ্ঠ বুযুর্গ, আধ্যাত্মিক রাহবার এবং হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর খলিফা শতবর্ষী আলেম হযরত হাজী মিয়াজী মুহাম্মদ রামজান মেওয়াতী (দা. বা.) ১৫ দিনের সফরে বাংলাদেশ আসছেন। আগামী ১৬ নভেম্বর তাঁর এই সফর শুরু হবে। এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ (হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল ও চণ্ডীগড়)-এর সাংগঠনিক সভাপতি এবং প্রখ্যাত বক্তা ‘খতিবে মেওয়াত’ মাওলানা হাকিমুদ্দিন আশরাফ উটাওড়ী সাহেব।উপমহাদেশের মহান বুযুর্গদের সান্নিধ্য ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারহযরত হাজী মিয়াজী মুহাম্মদ রামজান মেওয়াতী (দা. বা.)-এর দীর্ঘ ও বরকতময় জীবন ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ আলেম ও বুযুর্গদের সান্নিধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। তিনি শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর কাছ থেকে খিলাফত লাভ করেন। এছাড়া তিনি হযরত মাওলানা আবদুল কাদির রায়পুরী (রহ.), শায়খুল হাদিস মাওলানা যাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) এবং মাওলানা আবদুল আজিজ রায়পুরী (রহ.)-এর মতো মহান মনীষীদের প্রত্যক্ষ সোহবত লাভ করেছেন।দাওয়াত ও তাবলিগের সুদীর্ঘ মেহনতদাওয়াতে তাবলিগের কাজের সঙ্গে হযরতের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত প্রাচীন ও গভীর। তিনি তাবলিগের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী (রহ.)-এর থেকে সরাসরি আধ্যাত্মিক ফয়েজ লাভ করেন। পরবর্তীতে হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী (রহ.) এবং হযরত মাওলানা ইনআমুল হাসান কান্ধলভী (রহ.)-এর সাথে দীর্ঘ সময় দাওয়াতি মেহনতে অতিবাহিত করেন। বিশেষ করে হরিয়ানার মেওয়াত অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, আলেম-উলামা তৈরীর কারখানা তৈরি করা এবং ঘরে ঘরে দাওয়াতের আলো পৌঁছাতে তাঁর ভূমিকা ঐতিহাসিক।মালেব মাদরাসা ফয়জুল উলুম ও ইসলাহি কেন্দ্রবর্তমানে মেওয়াতের মালেব এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘মাদরাসা ফয়জুল উলুম’-এর মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা প্রদান ও আধ্যাত্মিক ইসলাহের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে নিয়মিত জিকির-আজকার এবং প্রতি বৃহস্পতিবার বিশেষ ইসলাহি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর হাতে হাজারো সাধারণ ও বিশিষ্ট মানুষ বাইআত গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর একাধিক খলিফা বিশ্বজুড়ে মানুষের তাজকিয়া ও আত্মশুদ্ধির খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন।সফরসঙ্গী ‘খতিবে মেওয়াত’ মাওলানা হাকিমুদ্দিন আশরাফএই সফরে শতবর্ষী এই বুযুর্গের সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন ভারতের প্রখ্যাত দ্বীনি ব্যক্তিত্ব, ওজস্বী বক্তা ও সংগঠক হযরত মাওলানা হাকিমুদ্দিন আশরাফ উটাওড়ী সাহেব। তিনি মেওয়াত অঞ্চলে তাঁর বাগ্মিতা ও সুসংগঠিত কাজের কারণে ‘খতিবে মেওয়াত’ নামে সুপরিচিত। মাওলানা হাকিমুদ্দিন আশরাফ বর্তমানে ভারতের হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ ও চণ্ডীগড় অঞ্চলের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাংগঠনিক সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে তিনি তাওড়ুর খারখড়িতে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘জামিয়া ইলিয়াসিয়া ইশাআতুল উলুম’-এর মুহতামিম হিসেবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে দ্বীনি শিক্ষায় আলোকিত করছেন।তিনি কেবল একজন প্রখ্যাত সুবক্তাই নন, বরং একজন বিশিষ্ট সচেতন লেখক। শিশুদের মনন বিকাশে তাঁর রচিত ‘ফিলিস্তিনি শিশুদের বার্তা’ শীর্ষক রচনাটি অত্যন্ত প্রশংসিত। তাঁর সামাজিক ও দাওয়াতি কার্যক্রমে সর্বদা দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিক সংস্কার, বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা প্রতিফলিত হয়।বাংলাদেশ সফরে দ্বীনি অঙ্গনের প্রত্যাশাউপমহাদেশের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের এই বাংলাদেশ আগমনকে কেন্দ্র করে দেশের শীর্ষ আলেম ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সফরকালে তাঁরা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান দ্বীনি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন, শীর্ষ উলামায়ে কেরামের সাথে মতবিনিময় করবেন এবং বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও ইসলাহি মাহফিলে অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় এবং আলেম সমাজের পারস্পরিক উখুওয়াত (ভ্রাতৃত্ব), দ্বীনি সম্পর্ক ও আত্মশুদ্ধির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।