বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের সলিল সমাধি: লাশ ফেলা হলো মাঝসাগরে

ইউরোপের উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটে গেছে। পথ হারিয়ে ৬ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে মারা গেছেন ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী, যাদের মধ্যে ১২ জনই বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। নিথর দেহগুলো নৌকায় রাখার জায়গা না থাকায় দাফন ছাড়াই মাঝসাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে পাচারকারীরা।লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ছোট রাবার বোটে যাত্রা করেছিলেন একদল অভিবাসনপ্রত্যাশী। কিন্তু মাঝপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলায় টানা ছয় দিন সাগরে আটকে থাকে। এই দীর্ঘ সময়ে সাথে থাকা সীমিত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি শেষ হয়ে গেলে শুরু হয় মৃত্যুর মিছিল। গ্রিসের একটি ক্যাম্পে উদ্ধার হওয়া হবিগঞ্জের এক যুবক গতকাল শনিবার রাতে নিশ্চিত করেছেন যে, অনাহারে ও পানিশূন্যতায় একে একে ২২ জন প্রাণ হারান। নৌকায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এবং পচন ধরার আশঙ্কায় দুই দিন পর মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নুরুজ্জামান সরদার (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), তায়েক মিয়া, সোহাস, আবু ফাহিম, সোহানুর রহমান, শায়েক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান এবং মোহাম্মদ আলী।নিহত শায়েক আহমেদের বাবা আখলুছ মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, ছেলেক গ্রিসে পাঠাতে দালাল আজিজুল ইসলামকে ১২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এখন ছেলের লাশেরও কোনো হদিস নেই। প্রতিটি পরিবারই দালালদের হাতে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা তুলে দিয়ে এই মরণফাঁদে পা দিয়েছিল।সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে জানিয়েছেন, অবৈধ মানব পাচারকারী ও দায়ী দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে জেলা প্রশাসন। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া বাকি ব্যক্তিদের গ্রিসের একটি শরণার্থী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের সলিল সমাধি: লাশ ফেলা হলো মাঝসাগরে