পবিত্র ঈদের দিন যমুনা প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণহীন ও অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হওয়ার কারণে দর্শক ও অতিথিরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্টে ভুগেছেন। বহুভাষা, ইতিহাস ও সমাজতত্ত্ববিদ উবায়দুর রহমান খান নদভী ফেসবুক পোস্টে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও ইমেজে প্রভাবউবায়দুর রহমান খান নদভী উল্লেখ করেছেন, আয়োজকরা যথাযথ পেশাদার ও অভিজ্ঞ কর্মী দিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা না করায় প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে যারা দূরদূরান্ত থেকে আগমন করেছিলেন, তাদের জন্য কোনও কার্যকর তথ্য বা নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি।দাওয়াত ও কার্ড বিতরণে অব্যবস্থাতিনি জানান, অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি দাওয়াত কার্ড ফেসবুকে আগে থেকেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেকে নিজেদের মতো করে কার্ড ব্যবহার করেছে। অনেক কার্ডে হাতে লেখা নাম থাকায় তালিকা অনুযায়ী অতিথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় এই দুর্বলতা অতিথিদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করেছে।লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা ও জনদুর্ভোগনদভী বর্ণনা করেন, যমুনা প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য হাজির অতিথিদের কয়েক ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। কোনও পানির ব্যবস্থা, ছোটখাটো খাবার বা সেবা প্রদান করা হয়নি। কেউ দায়িত্বশীল ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর অন্য স্থানে অবস্থানের বিষয়টি অতিথিদের জানানো হয়নি।কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাজাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা দপ্তর এই অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিল না। সেনা ও পুলিশেরও বক্তব্যে সমন্বয়ের অভাব এবং অনুপযুক্ত প্রস্তুতি পরিলক্ষিত হয়েছে। উবায়দুর রহমান বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনার দুর্বলতা প্রধানমন্ত্রী, ভিভিআইপি ও সাধারণ অতিথিদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করেছে।অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তানদভী মন্তব্য করেছেন, পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সময় পেশাদার ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতো। এবারকার অনুষ্ঠানটি জনসমাগমের চেয়ে বড় ও অপরিকল্পিত হয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি আয়োজকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।