রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কিশোরগঞ্জে মহাসম্মেলন

কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ চত্বরে এক বিশাল মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাদ জোহর আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের জেলা শাখা এই মহাসম্মেলনের আয়োজন করে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও আলেম-ওলামারা অংশ নিয়ে খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষায় জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের জোর দাবি জানান।খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষা এবং কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ চত্বর। শনিবার বাদ জোহর আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাসম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।সংগঠনের জেলা সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদের সভাপতিত্বে এবং মুফতি আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় মহাসম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী।প্রধান বক্তার বক্তব্যে মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের বিষয়ে তাদের সংগঠন কোনো ধরনের আপস করবে না। তিনি বলেন, সরকার যদি ইসলামের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তবে অবিলম্বে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা উচিত। বিশ্বের বহু মুসলিম দেশে কাদিয়ানীদের ইতোমধ্যে আইনিভাবে অমুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশেও তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবিতে পরিণত হয়েছে।"তিনি আরও বলেন, শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পর নতুন কোনো নবীর আগমনে বিশ্বাস করা ইসলামের মূল আকিদার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। কাদিয়ানী সম্প্রদায় নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মারাত্মক বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিভ্রান্তি দূর করতে জাতীয় সংসদে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করে তাদের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ বলেন, কিশোরগঞ্জের আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা ইতিহাসজুড়ে খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার সুনির্দিষ্ট আইন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন রাজপথে অব্যাহত থাকবে।সম্মেলনে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে তোলা নানামুখী স্লোগানে পুরো শহীদি মসজিদ এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন—শাইখুল হাদীশ মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদীমাওলানা ইমদাদুল্লাহমাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদীমাওলানা শাহ ইসমাঈল (পীর সাহেব)মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীমুফতি বশির উল্লাহমুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারীমাওলানা মুহিবুল্লাহমাওলানা মুহাম্মদমাওলানা আবুল বাশারমাওলানা উবায়দুল্লাহ আনোয়ারমাওলানা সাঈদ আহমাদমুফতি সুলতান আহমদ জাফরীমুফতি মাহমুদ হাসান কাসেমীমাওলানা আব্দুল আহাদসহ জেলার শীর্ষ স্থানীয় দায়িত্বশীল ও ওলামায়ে কেরাম।সম্মেলনের বক্তারা একযোগে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার পাশাপাশি খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষায় সমগ্র মুসলিম সমাজকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে এ দাবি আদায়ে আগামীতে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কিশোরগঞ্জে মহাসম্মেলন