শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

রামগঞ্জে মসজিদ ছুঁয়ে মাদক ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর শপথ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে তরুণদের বাঁচাতে এবং দ্বীনি পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে দেবনগর গ্রামের বাসিন্দারা। শুক্রবার এশার নামাজের পর স্থানীয় বায়তুল্লাহ বা মসজিদ ছুঁয়ে মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে আর কখনো না জড়ানোর শপথ নেন এলাকার যুবকরা। দেবনগর গ্রামে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুব সমাজকে অপরাধের পথ থেকে ফেরাতে স্থানীয় দ্বীনি ও সামাজিক নেতৃত্বের এ উদ্যোগ সারাদেশে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড দেবনগর গ্রামে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এশার জামাত শেষে এক হৃদয়গ্রাহী দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন মুসল্লিরা। গ্রামের মাঝখানের কেন্দ্রীয় মসজিদে এলাকার যুবক, তরুণ ও উঠতি বয়সের কিশোররা একত্রিত হয়ে মসজিদ ছুঁয়ে মাদক থেকে চিরতরে দূরে থাকার অঙ্গীকার করেন।সামাজিক ক্ষয়রোগ ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা পেতে এই অভিনব শপথবাক্য পাঠ করান দেবনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া। এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, ভোলাকোট ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছিল। অনেক তরুণ এতে আসক্ত হয়ে পড়ায় সামাজিক ও পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছিল। ইতিপূর্বে মৌখিক অঙ্গীকার বা বারবার স সতর্ক করলেও অনেকে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ত।এমতাবস্থায়, তরুণদের ঈমানী চেতনা ও পবিত্র মসজিদের মর্যাদাকে কেন্দ্র করে এই আত্মশুদ্ধিমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুবকরা মসজিদ ছুঁয়ে কসম করে যে, তারা আর কখনো মাদক সেবন করবে না এবং এলাকায় কোনো ধরনের মাদক বিক্রি বা সরবরাহে কাউকে মদদ দেবে না। আল্লাহর ঘরকে সাক্ষী রেখে গৃহীত এই উদ্যোগে যুবকদের মাঝে গভীর অনুশোচনা ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার লক্ষ করা গেছে।এই সামাজিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মজুমদার। তিনি বলেন, “এলাকায় মাদকের যে ভয়াবহতা তৈরি হয়েছে, তা প্রতিরোধে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক ও দ্বীনি মূল্যবোধের চর্চাই পারে তরুণদের সঠিক পথে রাখতে।”বিষয়টি সম্পর্কে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে সাজাও দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ ও নৈতিক অঙ্গীকার মাদক নির্মূলে পুলিশি উদ্যোগের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।ইসলামিক সমাজব্যবস্থায় মসজিদকে কেন্দ্র করে সামাজিক শুদ্ধি অভিযানের এই ঘটনাকে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

রামগঞ্জে মসজিদ ছুঁয়ে মাদক ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর শপথ