রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

যখনই চাইব ইরানে আবার হামলা চালাব: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের ওপর আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত। বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলাকে তিনি ‘অত্যন্ত সফল’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘যখনই চাইবে’ নতুন করে হামলা চালাতে প্রস্তুত। বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ইরান-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর মাধ্যমে তেহরানের বিরুদ্ধে তাঁর আগের হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ইরানি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মার্কিন সেনাবাহিনীর চালানো হামলাকে ট্রাম্প ‘অত্যন্ত সফল’ বলে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, “গত রাতে আমরা তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হেনেছি। তারা সীমিতভাবে জবাব দিয়েছে, কিন্তু আমি তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হেনেছি।”মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক তেলবাহী ট্যাঙ্কার এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করছে।ট্রাম্প বলেন, “আমরা মূলত কোনো সমস্যা ছাড়াই তা করে থাকি। মাঝে মাঝে তারা ড্রোন ভূপাতিত করে, কিন্তু প্রণালীটির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ খুবই সুস্পষ্ট।”এর আগে হরমুজ প্রণালীর নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ রাখার আহ্বান জানিয়ে তাঁর করা একটি মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি কেবল একটি ধারণা উপস্থাপন করেছিলাম।”ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।” তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দীর্ঘদিন টিকে থাকবে না এবং দেশটি আর কতদিন বর্তমান পরিস্থিতি ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়েও তিনি অনিশ্চিত।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ওই সংঘাতের অংশ হিসেবে তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নৌ চলাচলও ব্যাহত হয়।যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে এবং ওই অঞ্চলে নিজেদের ভাষায় ‘আমেরিকান ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।এরপর ২০২৬ সালের ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান শত্রুতা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে প্রক্রিয়াটি পরবর্তীতে থমকে যায়।জুলাই মাসে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আবারও শুরু হয়। এর পরপরই মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেয়।ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

যখনই চাইব ইরানে আবার হামলা চালাব: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি