শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

মিরাটে মসজিদে হনুমান চালিসা পাঠের চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী চক্রান্ত নস্যাৎ; পুলিশের দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলায় এক মসজিদে ঢুকে জোড়পূর্বক 'হনুমান চালিসা' পাঠের উদ্দেশ্যে চরমপন্থী সংগঠন 'হিন্দু রক্ষা দল'-এর একটি উস্কানিমূলক পদযাত্রা পুলিশি বাধার মুখে পণ্ড হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার হিন্দুত্ববাদী দলটির উত্তরাখণ্ড রাজ্য সভাপতি ললিত শর্মার নেতৃত্বে চরমপন্থীরা মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ তাদের পথরোধ করে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করে। তবে এই ঘটনায় উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে নরম সুর অবলম্বন করায় উত্তর প্রদেশ পুলিশের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত এবং পুলিশের চরম দ্বিমুখী নীতির প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছেভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় লক্ষ্য করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর উস্কানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি মিরাট জেলায় এক ঐতিহ্যবাহী মসজিদে অনুপ্রবেশ করে ধর্মীয় স্লোগান ও 'হনুমান চালিসা' পাঠের মাধ্যমে পরিবেশ উত্তপ্ত করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা চালায় 'হিন্দু রক্ষা দল' নামক একটি চরমপন্থী সংগঠন। তবে চরম সংঘাতের আশঙ্কায় স্থানীয় পুলিশ মিছিলে বাধা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রত্যক্ষ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির উত্তরাখণ্ড রাজ্য সভাপতি ললিত শর্মার নেতৃত্বে উগ্রপন্থীদের একটি দল দলবদ্ধ হয়ে মসজিদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পুলিশ তাদের মাঝপথে থামিয়ে দিলে তারা উস্কানিমূলক সামাজিক বিদ্বেষমূলক স্লোগান দিতে থাকে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চরমপন্থীরা 'ইয়ে নাতো মোল্লা কা হে, নাতো কাজী কা হে, ইয়ে দেশ বীর শিবাজী কা হে' (এই দেশ কোনো মোল্লা বা কাজীর নয়, এই দেশ বীর শিবাজীর) সহ নানা সাম্প্রদায়িক স্লোগান ছড়ায়।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পৌঁছানোর পরপরই চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেন ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, মন্দির বা নিজস্ব উপাসনালয় থাকা সত্ত্বেও কেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি পবিত্র মসজিদে ঢুকে অন্য ধর্মের আচার পালন করার উস্কানি দেওয়া হচ্ছে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম X (সাবেক টুইটার)-এ এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, 'তারা কেন মসজিদে গিয়ে হনুমান চালিসা পাঠ করতে চায়? এর জন্য মন্দির ও অন্যান্য জায়গা রয়েছে। পবিত্র মসজিদে গিয়ে কেন এই উস্কানি?'অন্য এক ব্যবহারকারী যোগী আদিত্যনাথের উত্তর প্রদেশ পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, 'আইন-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার চেষ্টা চালানো এই হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কেন উত্তর প্রদেশ পুলিশ কঠোর শক্তি প্রয়োগ করছে না? কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA) প্রয়োগ করা হচ্ছে না?'সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে রাজ্য পুলিশের 'দ্বিমুখী নীতি' ও চরম বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে। নেটিজেনরা মিরাটের এই কোমল আচরণের সঙ্গে মোরাদাবাদ ও বেরেলির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তুলনা টানছেন। উল্লেখ্য, মোরাদাবাদ ও বেরেলিতে নিজেদের ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ি বা বন্ধ প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্নভাবে নামাজ আদায় করার অপরাধে সাধারণ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ।X-এর এক ব্যবহারকারী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'মিরাটে মসজিদে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো ললিত শর্মা ও হিন্দু রক্ষা দলের উগ্রপন্থীদের পুলিশ কেবল থামিয়ে শান্তভাবে বুঝিয়ে বিদায় দিয়েছে। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদ ও বেরেলির মতো জেলায় নিজেদের ঘরের ভেতরে নামাজ পড়ার কারণে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা করা হয়। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং পরিষ্কার বৈষম্য!'পবিত্র উপাসনালয়ের মর্যাদা রক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং চরমপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের এ ধরনের দ্বিমুখী ভূমিকা ভারতে মুসলিমদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। তবে এ বিষয়ে উত্তর প্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা কোনো উগ্রপন্থীর বিরুদ্ধে কঠোর মামলা দায়েরের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মিরাটে মসজিদে হনুমান চালিসা পাঠের চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী চক্রান্ত নস্যাৎ; পুলিশের দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ