আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ: নাতি মাসউদের আবেগঘন স্মৃতিচারণ
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে মরহুমের নাতি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ সাঈদী এক আবেগঘন বার্তায় দাদাকে স্মরণ করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করেছেন।উপমহাদেশের খ্যাতনামা দ্বীন প্রচারক, প্রখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর তিন বছর পরও উপমহাদেশের সাধারণ তাওহীদি জনতা ও কোরআনপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি সমানভাবে শ্রদ্ধার স্থানে আসীন রয়েছেন।দাদার ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আল্লামা সাঈদীর নাতি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ সাঈদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন ও হৃদয়ানুভূতিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি শৈশবের স্মৃতি, দাদার প্রতি সুগভীর ভালোবাসা এবং তাকে হারানোর অপরিসীম শূন্যতার কথা প্রকাশ করেন।মাসুদ সাঈদী লেখেন, “দাদাজি… আজ ৩ বছর হয়ে গেল তুমি আমাদের মাঝে নেই। ৩টা বছর হয়ে গেল তোমার মুখ থেকে আর আমার নাম ধরে সেই প্রিয় ডাকটা শুনি না। আজও মনে হয়, যদি আর একবার তুমি আমার কপালে চুমু দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরতে… আর একবার আমার নাম ধরে ডাকতে…! ৩ বছর হয়ে গেল, কিন্তু তোমাকে হারানোর শূন্যতাটা আজও আগের মতোই আছে। কিন্তু প্রিয়জন চলে গেলে ফিরে আসে না, তাকে ছাড়া কোনোভাবে প্রাণ না জুড়ায়…।”আল্লামা সাঈদীর আজীবন কোরআনের খিদমত ও বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি আরও লেখেন, “তুমি ছিলে কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, ইকামতে দ্বীনের স্বপ্নপুরুষ, কুরআনের পাখি যিনি সারাজীবন ছুটে বেড়িয়েছো এই জনপদের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, শহরের মঞ্চ থেকে গ্রামের ধুলোমাখা ময়দান পর্যন্ত কুরআনের কথা বলেছো, মানুষকে আল্লাহর পথে ডেকেছো। আজ তুমি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তোমার শাহাদাৎ, তোমার কণ্ঠ, তোমার তাফসির, তোমার বলা কথাগুলো এবং তোমার রেখে যাওয়া আদর্শ আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে, আজও অনুপ্রেরণা জোগায় কোটি মানুষের হৃদয়ে!”পরকালে পরম প্রতিপালকের সান্নিধ্যে দাদার সাথে পুনর্মিলনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, “আমার দাদাজী, আমার কলিজার দাদাজি তোমাকে অনেক ভালোবাসি! ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে জান্নাতে। সেদিন কোনো দূরত্ব থাকবে না, কোনো অপেক্ষা থাকবে না, কোনো কান্না থাকবে না। ইয়া রব! আমার পরম শ্রদ্ধেয় দাদাজীকে আপনি শহীদ হিসেবে কবুল করে নিন। দুনিয়াতে যেভাবে তাকে সম্মানিত করেছেন, আখিরাতে তার চেয়েও বহুগুণ বেশি সম্মানিত করুন। তাঁর কবরকে কুরআনের নূর দিয়ে মুনাওয়্যার করে দিন, তাঁর সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন ~ আমীন।”১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জীবনের দীর্ঘ সময় দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে কোরআনের তাফসির মাহফিলের মাধ্যমে কোটি মানুষকে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তার রচিত বহু ইসলামী গ্রন্থ ও তাফসির আজ বাংলাভাষী মুসলিমদের অন্যতম পথপ্রদর্শক।