আধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জেরুজালেম গভর্নরেট। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জেরুজালেমের ঐতিহাসিক দামেস্ক গেট এলাকায় ইসরায়েলি সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে নিহত হন ৩৩ বছর বয়সী ইব্রাহিম আল- হিন্দি। জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছে।ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পূর্ব জেরুজালেমের অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার দামেস্ক গেটের কাছে ইব্রাহিম আল-হিন্দিকে লক্ষ্য করে পর পর দুইবার গুলি চালায় ইসরায়েলি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পর জেরুজালেম গভর্নরেট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ইব্রাহিম আল-হিন্দির এই নির্মম মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর নিয়মিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং সংক্ষিপ্ত বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চরম নীতিমালারই একটি অংশ। গভর্নরেট আরও জোর দিয়ে বলেছে, নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন।অন্যদিকে, বরাবরের মতোই নিজেদের আড়াল করতে ইসরায়েলি পুলিশ দাবি করেছে, উক্ত যুবক সীমান্তরক্ষীদের ওপর ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেছিলেন, তাই আত্মরক্ষার্থে তাকে গুলি করা হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলি পুলিশের এই দাবিকে সম্পূর্ণ বানানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, চলমান ২০২৬ সালে কেবল জেরুজালেম গভর্নরেট এলাকাতেই ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী এবং উগ্র বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত ও হামলায় অন্তত ১৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে প্রতিদিনের এই দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরব ভূমিকার কারণে আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অধিকারকর্মীরা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।