শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিত্র মাইজভান্ডারি গোষ্ঠীর ঢাকায় মহড়া: প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানী ঢাকায় গত ২৬ আগস্ট পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারি দরবারপন্থী বিভিন্ন গ্রুপের ব্যানারে নজিরবিহীন জশনে জুলুস ও বিশাল সমাবেশের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক তরিকত ফেডারেশন ও ‘কিংস পার্টি’ সুপ্রিম পার্টির নেতাদের ছায়ায় পরিচালিত এই গোষ্ঠী কীভাবে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে পুরো ঢাকা অচল করে এমন মহড়া দিল, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিতর্ক।বিগত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাসহ তাদের দোসররা আত্মগোপনে রয়েছে। তবে ২৬ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) সরকারি ছুটির দিনে চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারি গোষ্ঠী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ অন্তত পাঁচ-ছয়টি কৌশলগত স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নামে একযোগে জশনে জুলুস ও র‍্যালির আয়োজন করে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা শত শত বাস, ট্রাক ও পিকআপে করে হাজার হাজার লোক এনে পুরো রাজধানী কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।অনুসন্ধানে জানা যায়, মাইজভান্ডারি গোষ্ঠী মূলত বিগত স্বৈরাচারী শাসনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক ছিল। মাইজভান্ডারিভিত্তিক রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন’-এর প্রধান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার একাধিক মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি।অন্যদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন নজিবুল বশরের আপন ভাতিজা সাইফুদ্দীন আহমেদ মাইজভান্ডারি। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনকে বৈধতা দিতে সাইফুদ্দীন মাইজভান্ডারি ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি’ (বিএসপি) নামক একটি কিংস পার্টি গঠন করেন এবং লিবারেল ইসলামিক জোটের ব্যানারে ২০০ আসনে তথাকথিত প্রার্থী দাঁড় করান।আল জাজিরার প্রখ্যাত অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাঈন সায়ের তাঁর এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আনেন। অতীতে যেসব কর্মসূচি চট্টগ্রাম শহরের নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকত, তা হঠাৎ করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ঢাকায় এনে মিডিয়া কভারেজ সহকারে আয়োজন করার নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধছে। প্রশ্ন উঠছে—স্বৈরাচারের দোসর এবং গণহত্যার আসামিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই গোষ্ঠী কীভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা কাদের যোগসাজশে এমন বিশাল সমাবেশের অনুমোদন পেল? অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের ও নেপথ্যের মদদদাতাদের চিহ্নিত করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিত্র মাইজভান্ডারি গোষ্ঠীর ঢাকায় মহড়া: প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন