মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজায় ফিরতেই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত ফিলিস্তিনি নারী: শিশুর হাতের খেলনাও কেড়ে নিচ্ছে

প্রায় ২১ মাস বন্ধ থাকার পর মিসর সংলগ্ন রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন কিছু ফিলিস্তিনি। কিন্তু সেই ফেরার আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর অমানবিক আচরণে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি, শিশুদের খেলনা কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফিরেছেন ১২ জন ফিলিস্তিনি।মিসর সীমান্ত দিয়ে গাজা উপখণ্ডে প্রবেশ করেন ৯ জন নারী ও ৩ জন শিশুসহ মোট ১২ জন ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের বিশেষ যানে করে তাদের দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে ফেরার পথে তারা যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তাকে ‘মৃত্যুতুল্য’ বলে বর্ণনা করেছেন ফিরে আসা এক নারী।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলছেন, ইসরায়েলি সেনারা তাদের কয়েক ঘণ্টা চোখ বেঁধে এবং হাতকড়া পরিয়ে রেখেছিল। কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই নয়, বরং তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল যেন তারা আর কখনও গাজায় ফিরে না আসে। এমনকি তাকে সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা করার হুমকি দিয়ে ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।ইসরায়েলি সেনারা গাজায় প্রবেশকারীদের সাথে থাকা প্রায় সমস্ত জিনিসপত্র জব্দ করেছে। খাবারের প্যাকেট, সুগন্ধি, এমনকি শিশুদের সাধারণ প্লাস্টিকের খেলনাও ভেতরে নিতে দেওয়া হয়নি। ওই নারী বলেন, "সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল যখন আমার ছোট মেয়ের হাত থেকে খেলনাটি কেড়ে নিয়ে সেনারা বলল, ‘খেলনা নিষিদ্ধ’। এটি কেবল আইন নয়, এটি ছিল আমাদের সচেতনভাবে অপমান করার একটি প্রক্রিয়া।" সেনারা আদেশ দিয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল এক ব্যাগ কাপড় নিয়ে গাজায় ঢুকতে পারবে। এর বাইরে সবকিছু তারা ডাস্টবিনে ফেলে দিতে বাধ্য করেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, রাফাহ সীমান্ত খুলে দিলেও ইসরায়েল চায় গাজা থেকে যারা বের হবে তাদের সংখ্যা যেন ফেরার সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হয়। মূলত গাজাকে ফিলিস্তিনি শূন্য করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই কড়াকড়ি। ইসরায়েলি ও মিসরীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রতিদিন ১৫০ জনের গাজা ছাড়ার অনুমতি থাকলেও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫০ জনকে। তবে গতকাল ৫০ জন ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১২ জন ফিরতে পেরেছেন।ফিরে আসা নারীরা যখন নাসের হাসপাতালে পৌঁছান, তখন তারা ক্লান্ত কণ্ঠে স্লোগান দিচ্ছিলেন, "উচ্ছেদ নয়, আমরা নিজ ভূমিতেই থাকব।" বর্তমানে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে মানবিক সহায়তা ও ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের কথা থাকলেও ইসরায়েল এখনও তা অনেকাংশেই বাধাগ্রস্ত করছে।

গাজায় ফিরতেই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত ফিলিস্তিনি নারী: শিশুর হাতের খেলনাও কেড়ে নিচ্ছে