শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

১ কোটি চাকরির নামে সরকার চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

সরকার এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রকৃতপক্ষে তাদের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৫ মার্চ) বিকেল ৫টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। পথসভায় তিনি সরকারের বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, চাকরির ভাইভায় বৈষম্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জুলাই আন্দোলনের সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানার কঠোর সমালোচনা করে ৮ দফা দাবি মানার জোর দাবি জানান।সরকার মুখে এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তরুণদের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার বিকেল ৫টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের দীর্ঘ ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। লংমার্চটি বগুড়ায় পৌঁছালে সর্বস্তরের সর্বসাধারণ ও নেতাকর্মীরা লংমার্চ বহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান, যা পরবর্তীতে এক বিশাল গণসমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় বগুড়া থেকেও শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে নেতাকর্মীরা মূল লংমার্চে যুক্ত হন।দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষকদের সারের দাম অন্যায়ভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের দায়িত্বহীন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক মন্ত্রী নাকি বলেছেন যে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই, তার লম্বা হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়! দায়িত্বশীল পদে বসে এমন অবাস্তব ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলা অত্যন্ত লজ্জাজনক।সরকারের ওপর জনআকাঙ্ক্ষা ভঙ্গের অভিযোগ এনে জামায়াত আমির বলেন, "৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দিয়েছিল। আপনারা সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও চেয়েছি। কিন্তু ক্ষমতায় এসে আপনারা অবস্থান পরিবর্তন করলেন কেন? জুলাইয়ের বীর শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করলেও আপনারা সেই জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সনদ বাস্তবায়ন করেননি।"তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার যদি জুলাই আন্দোলনের সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে এবং পেশকৃত আট দফা দাবি না মানে, তবে বাধ্য হয়ে এক দফার আন্দোলন ডাক দেওয়া হবে। তবে আট দফা দাবি মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। দাবি না মানা পর্যন্ত দেশবাসীকে এক দফার কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় চলমান বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নতুন সংবিধানে লিখিত পরীক্ষার চেয়ে ভাইভার নম্বর দ্বিগুণ করার ষড়যন্ত্র চলছে, যাতে দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের সরকারি পদে বসানো যায়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণরা চাকরির বৈষম্যহীন অধিকারের জন্যই জীবন দিয়েছিল। অধিকার ও বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনে তরুণ সমাজ আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।দেশের আশঙ্কাজনক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তান নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধারের হৃদয়বিদায়ক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাগরিকরা তাদের সন্তানদের ন্যূনতম নিরাপত্তা চায়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'সর্বমন্ত্রী'র ভূমিকা পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'এবারকার লংমার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে। আগামী লংমার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। কোনো হুমকি-ধমকি বা নাটকের পরোয়া আমরা করি না। জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না।'এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে শুরু হওয়া লংমার্চের বহরটি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার চান্দাইকোনায় পৌঁছালে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ লংমার্চকে স্বাগত জানায়। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এই লংমার্চে সশরীরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাটিডালির সফল পথসভা শেষে বিশাল এই গাড়িবহর রংপুরের অভিমুখে রওনা হয়।

১ কোটি চাকরির নামে সরকার চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান