গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দেশের সার্বিক সংকটের দ্রুত সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে পরিচালিত বিশাল লংমার্চের পথসভায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। আজ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার সকাল ৯টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় তিনি স্পষ্ট জানান, জনগণের ঐতিহাসিক গণভোটের রায়কে রাজনৈতিক চক্রান্তের মাধ্যমে বানচাল করার অপচেষ্টা চালানো হলে তা বরদাশত করা হবে না এবং দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর গণতান্ত্রিক জবাব প্রদান করা হবে।গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং দেশের জনগণের ন্যায়সংগত ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক লংমার্চের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডে আয়োজিত পথসভায় আল্লামা মামুনুল হক অত্যন্ত কড়া সুর উচ্চারণ করেছেন।আজ সকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম অভিমুখী এই ঐতিহাসিক লংমার্চটির সুচনা ঘটে। পথিমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডে বিশাল এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, "শেখ হাসিনাকে এ দেশের সাধারণ জনগণ রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে ছক্কা পিটিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন নতুন করে শাসকগোষ্ঠী বা তাদের সমর্থিত রাজনৈতিক শক্তি যদি সেই একই স্বৈরাচারী পথে হাঁটে এবং নিজেদের মুখপাত্র বা আইনগত কৌশলের দোহাই দিয়ে বারবার জনগণের এই ঐতিহাসিক গণভোটকে অবৈধ প্রমাণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়, তবে তাদের পরিণতিও কিন্তু সাবেক স্বৈরাচারের চেয়ে ভিন্ন কিছু হবে না।"বর্তমান সরকারি দল ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকার সমালোচনা করে আলেম-নেতা আরও জোর দিয়ে বলেন, "আপনারা বাজারে সাধারণ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ড বিতরণ করছেন। রাজনৈতিক সুবিধা বিতরণকে আমরা স্বাগত জানাতে পারি, তবে মনে রাখবেন—কোনো কার্ডের প্রলোভন দিয়ে যদি জনগণের সুস্পস্ট রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক রায়কে বিভ্রান্ত বা বানচাল করতে চান, তবে স্মরণ রাখবেন এ দেশের আলেমসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের হাতে আন্দোলন-সংগ্রামের ‘লালকার্ড’ মজুত রয়েছে।"বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর সতর্ক করে দেন যে, দেশের ৯০ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে। কোনো প্রকার সুসংগঠিত চক্রান্তের মাধ্যমে বা কোনো বাহ্যিক রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে যদি ইসলামিক শক্তিসমূহ এবং জনগণের সম্মিলিত ম্যান্ডেটকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে সারা বাংলাদেশের রাজপথে এর বিরুদ্ধে দাবানল জ্বলে উঠবে।উক্ত পথসভায় খেলাফত মজলিসসহ জোটভুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইসলামি দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা এবং সর্বস্তরের তাওহিদি জনতা ব্যাপকভাবে অংশ নেন। সভা শেষে হাজার হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চের বিশাল এই যাত্রা মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের অভিমুখে রওনা হয়।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।