ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনকে অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য একটি বিধ্বংসী 'ভূমিকম্প' বলে আখ্যায়িত করেছে কাতার। রোববার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত ‘কাতার ইকোনমিক ফোরাম’-এর বিশেষ উদ্বোধনী পর্বে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল থানি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন ব্যতীত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার চক্র বন্ধ করতে তিনি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের কারণে সমগ্র অঞ্চলে যে নজিরবিহীন সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে, তাকে সমগ্র বিশ্বব্যবস্থার জন্য এক মারাত্মক ‘ভূমিকম্প’ বলে সতর্ক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল থানি। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধের ধাক্কা মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং নৌপথের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত ‘কাতার ইকোনমিক ফোরাম’-এর বিশেষ সংস্করণের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন রূপরেখা গ্রহণের আহ্বান জানান।‘অন্যকে অরক্ষিত রেখে নিজের নিরাপত্তা সম্ভব নয়’কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'স্থায়ী নিরাপত্তা এমন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে না যা কোনো একটি রাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে অরক্ষিত বা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে রাখে। আমাদের এমন একটি কাঠামোর দিকে এগোতে হবে যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানো হবে এবং কোনো রাষ্ট্রই অন্য রাষ্ট্রের জন্য সামরিক বা অস্তিত্বের হুমকি হয়ে উঠবে না।'তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকটের শুরু থেকেই প্রতিটি আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিরাপত্তা ও সামরিক উত্তেজনা হ্রাসের কথা বলা হলেও, দিনশেষে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনার ওপর এসে পড়ে। এসব ভিন্ন ভিন্ন উদ্বেগ মূলত একই মূল প্রশ্নের প্রতিফলন—যখন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এভাবে বিপর্যস্ত হয়, তখন আর কিসের ওপর ভরসা রাখা যায়?কাতারের মধ্যস্থতা ও সংকট নিরসনের প্রচেষ্টাপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল-আনসারি আমেরিকান মিডিয়াকে নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ বন্ধ এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় চালু করতে কাতারের কূটনৈতিক দল পর্দার অন্তরালে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ইরান ইতোমধ্যে কাতারের মাধ্যমে আলোচনার জন্য তাদের শর্তাবলী ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে জিসিসি (জিডিজি) নেতাদের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠকে কাতারের এই কূটনৈতিক বার্তাটিই প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হতে যাচ্ছে।আঞ্চলিক সংকটের মুখে কাতারি অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতাচলমান সংঘাতের দরুন পুরো অঞ্চল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হলেও কাতার নিজের অভ্যন্তরীণ ভিত্তি মজবুত রেখেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের অবকাঠামো খাতে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে। এর লক্ষ্য ব্যক্তিগত খাত ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা এবং প্রমাণ করা যে, বাহ্যিক ভূ-রাজনৈতিক ঝড়ের মুখেও কাতার একটি শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও রক্তপাত বন্ধের একমাত্র পথ হলো আধিপত্যবাদী নীতি ও উগ্র যুদ্ধবাজি ত্যাগ করে সকল দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মুসলিম উম্মাহর অর্থনৈতিক স সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।