শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও এআইয়ের অপব্যবহার থেকে সতর্ক করলেন শায়খ সুদাইস

মক্কা মুকাররমার মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আস-সুদাইস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইসলামী ও নৈতিক নীতিমালা অনুসরণের জন্য মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতি, ভুয়া তথ্য প্রকাশ এবং ব্যক্তি ও সমাজের ক্ষতি করার মতো গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।পবিত্র মসজিদুল হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবায় শায়খ সুদাইস উল্লেখ করেন যে, ইসলাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যা তার মৌলিক নীতি ও শরিয়াহর মাধ্যমে উম্মাহকে উত্তম চরিত্র ও সঠিক আচরণের দিকে নির্দেশ করে। তিনি বলেন, বর্তমান যুগে প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে, যা এখন প্রতিটি পরিবার ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এসব প্রযুক্তি ও এআই আল্লাহর দেওয়া অন্যতম বড় নিয়ামত; তাই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এগুলোকে সততা ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা উচিত। তিনি মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের আয়াত স্মরণ করিয়ে দেন, 'তিনি জানেন চোখের খেয়ানত এবং অন্তরে যা লুকিয়ে থাকে' (সূরা গাফির: ১৯)।শায়খ সুদাইস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দায়িত্বহীন ব্যবহার সামাজিক সম্পর্ক বিনষ্ট করে, গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায় এবং মানুষের সম্মান, বুদ্ধি ও সম্পদের হানি ঘটায়। ভুয়া প্ল্যাটফর্ম ও ভুয়া ওয়েবসাইট সম্পর্কে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে বিভ্রান্তিকর খবর ও অনাস্থাযোগ্য বিষয়বস্তু ছড়ানো হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমরা যা বলি, লিখি বা শেয়ার করি, তার প্রতিটি শব্দের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, 'মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছেই প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে' (সূরা কাফ: ১৮)। মহানবী (সা.) বলেছেন, 'মানুষ অনেক সময় না ভেবেই এমন কথা বলে ফেলে যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, আর এর মাধ্যমে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন; আবার না ভেবে এমন কথা বলে যা আল্লাহকে রুষ্ট করে, আর সেটির কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়' (সহীহ বুখারী)।তিনি এআই ও কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে জালিয়াতি, কণ্ঠস্বর নকল করা, ডিপফেক ভিডিও তৈরি ও অন্যের পরিচয় ব্যবহার করার মতো অপরাধের ব্যাপারে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এগুলো চরম মিথ্যাচারের অন্তর্ভুক্ত এবং অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ ও অকল্যাণ ছড়ানোর নামান্তর। এ ধরনের প্রযুক্তিগত অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, বিশ্বাস ভেঙে দেয় এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। যেকোনো সংবাদ, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা যাচাই করার জোর তাগিদ দিয়ে তিনি পবিত্র কোরআনের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দেন: 'হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে...' (সূরা আল-হুজুরাত: ৬)। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই বলে বেড়ায়' (সহীহ মুসলিম)।খুতবার দ্বিতীয় অংশে শায়খ সুদাইস ঐক্য ও সাম্যের বার্তা দিয়ে বলেন, শরিয়াহ এসেছে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং বিভেদ দূর করতে। তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্ল্যাকমেইলিং, মানহানি, অনলাইন প্রতারণা এবং দ্রুত ধনী হওয়ার ভুয়া লোভ দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। একইসাথে বিদ্বেষ, নাস্তিকতা ও অশ্লীলতা ছড়ায় এমন কন্টেন্ট প্রতিহত করার আহ্বান জানান। খতিব দেশের নিরাপত্তা, নেতৃত্ব এবং আলেমদের উদ্দেশ্য করে প্রচারিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন এবং প্রযুক্তিকে দ্বীন ও দেশের কল্যাণে ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দেন।খুতবার শেষভাগে তিনি মক্কা ও মদিনায় হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিগত হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, হারামাইন শরিফাইনের নিরাপত্তা একটি লাল রেখা (Red Line), এতে আঘাত হানা আন্তর্জাতিক আইন ও মুসলিম অনুভূতির চরম লঙ্ঘন। শেষে তিনি সৌদি আরবসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে খাদেমুল হারামাইন ও যুবরাজের জন্য দোয়া করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও এআইয়ের অপব্যবহার থেকে সতর্ক করলেন শায়খ সুদাইস