দেশের প্রায় ৮০ হাজার কওমি মাদরাসা জাকাতের অর্থ সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, চরিত্র গঠন ও সামাজিক পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনকালে প্রশ্নোত্তর পর্বে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের এক বিশাল সামাজিক দায়িত্ব নীরবভাবে পালন করে যাচ্ছে।জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদরাসা, মক্তব, এতিমখানা ও বিভিন্ন সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান জাকাত তহবিলের ওপর নির্ভর করে লাখ লাখ অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পড়ালেখা ও খাদ্য-বাসস্থানের ভার বহন করছে। বিশেষ করে কওমি মাদরাসাগুলো সরকারের বাজেট নির্ভরতা ছাড়াই কেবল উম্মাহর দান ও জাকাতের সহযোগিতায় পিছিয়ে পড়া বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর ও নীতিবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে, যা মূলত একটি বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের শামিল।জাকাত ব্যবস্থাপনার সরকারি কাঠামো তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ১৯৮২ সাল থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি জাকাত ফান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। জাকাত সংগ্রহ ও সঠিক হকদারদের মাঝে তা সুষমভাবে বিতরণের লক্ষ্যেই ২০২৩ সালে যুগোপযোগী ‘জাকাত আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, জাকাত ব্যবস্থার সার্বিক আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কার্যকারিতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির পরামর্শে জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনসহ জাকাত আদায় ও বিতরণ প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া দ্বীনি খেদমত ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারি জাকাত ফান্ডে অর্থ প্রদানকারীদের কর রেয়াত (Tax Rebate) দেওয়ার সুবিধা অব্যাহত রয়েছে বলে সংসদে অর্থমন্ত্রী নিশ্চিত করেন। জাকাত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এটিকে আরও গতিশীল ও জনগণের কাছে আস্থাশীল করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।