মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

আলেমদের সমালোচনায় শালীনতা ও আদব বজায় রাখা চাই

ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলেম-ওলামাদের নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা ও কাদা ছোড়াছুড়ি চোখে পড়ছে। মতের ভিন্নতা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্যের গঠনমূলক সমালোচনা করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই সেই সমালোচনায় শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।মতপ্রকাশের বা যুক্তিসঙ্গত সমালোচনার অধিকার থাকলেও কাউকে অপমান বা হেয় করার অধিকার কারো নেই। বিশেষ করে যাঁরা জীবনের দীর্ঘ সময় দ্বীনি জ্ঞানার্জনে ব্যয় করেছেন, তাঁদের কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা উপস্থাপনের ধরণ হতে হবে মার্জিত, যুক্তিযুক্ত এবং তথ্যনির্ভর।একজন আলেম বা বিজ্ঞ গবেষকের কোনো বক্তব্য ভুল মনে হলে ইসলামী বিধান ও বুদ্ধিবৃত্তিক শিষ্টাচার অনুযায়ী তা দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে খণ্ডন করা উচিত। কিন্তু সঠিক পদ্ধতি এড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি কিংবা অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করলে সত্য উদঘাটন বা সংশোধনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং এতে কেবলই পারস্পরিক বিদ্বেষ ফুটে ওঠে।আন্তর্জাতিক মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শিষ্টাচারের আলোকে এটি বিবেচনা করা জরুরি যে, আমরা যাঁর সমালোচনা করছি, তাঁর জ্ঞান, দীর্ঘ অধ্যয়ন, কাজের অভিজ্ঞতা এবং তাকওয়া সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা কতটুকু? নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করা এবং দ্বীনি জ্ঞানীদের সম্মান প্রদান করা একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল মুসলিমের অন্যতম প্রধান পরিচয়।ভুল মানুষেরই হতে পারে এবং ভুল হলে তা সংশোধনের পথ উন্মুক্ত রাখা আবশ্যক। মতের অমিল হলে যুক্তি দিয়ে কথা বলার সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে, তবে ভাষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শালীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। সমালোচনা হতে হবে সত্য প্রকাশ ও সংশোধনের নিয়তে, কাউকে ছোট বা অপদস্থ করার জন্য নয়। কেননা, নীতিগত বা চিন্তাগত মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু নীতি ও আদব হারিয়ে গেলে সেই আলোচনার বস্তুগত কোনো মূল্য অবশিষ্ট থাকে না।

আলেমদের সমালোচনায় শালীনতা ও আদব বজায় রাখা চাই