আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে: সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী বিল’ পাস, বাড়ছে শাস্তির মেয়াদ
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’। বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংস্থাকে নিষিদ্ধ করার এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর কারাদণ্ডের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করল বর্তমান সরকার।বুধবার সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সুপারিশকৃত এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি উত্থাপন করা হলে তা পাস হয়। এই নতুন আইন অনুযায়ী, সরকার যদি কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সত্তাকে সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করে, তবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পূর্ণ ক্ষমতা পাবে।পাস হওয়া বিলটিতে শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাই নয়, বরং শাস্তির মাত্রাও বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা: নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন বা রাজনৈতিক দল অনলাইন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরণের কার্যক্রম বা প্রচারণা চালাতে পারবে না।সহায়তায় দণ্ড: নিষিদ্ধ সংগঠনকে অর্থায়ন, আশ্রয় প্রদান বা কোনো ধরনের সহায়তা করলে আগের চেয়ে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।কারাদণ্ড: যদি কোনো নিষিদ্ধ সত্তা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৪ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।২০২৫ সালের ১১ মে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন করে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশটি ১২ এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে সংসদে পাস হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, অন্যথায় এটি কার্যকারিতা হারাত।মজার বিষয় হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিএনপি নির্বাহী আদেশে দল নিষিদ্ধের বিরোধিতা করলেও, বর্তমানে সরকার গঠনের পর তারা সেই অধ্যাদেশটিকে স্থায়ী আইনে পরিণত করল। এর ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ আরও কণ্টকাকীর্ণ হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।গত ১৩ মার্চ সংসদ গঠনের পর ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের সুপারিশ করেছিল, যার মধ্যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’ অন্যতম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হয়েছিল যে, আগের অধ্যাদেশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার সুনির্দিষ্ট সাজার বিধান ছিল না। বর্তমান আইনে সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করে সাজার মেয়াদ যুক্ত করা হয়েছে।এখন থেকে আওয়ামী লীগ কোনো মিছিল, সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, তাদের কার্যালয় বন্ধ থাকবে এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকবে। এমনকি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা সংবাদ সম্মেলন করার ওপরও আইনি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।