ভিন্ন ব্যক্তির নামে ফেক আইডি খুলে পবিত্র কোরআন অবমাননার দায়ে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে মূল ষড়যন্ত্রকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শংকর পাল নামক এক ব্যক্তির ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে জনৈক প্রদীপ পাল এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের নেপথ্যে থাকা অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শংকর পাল’ নামক একটি ফেসবুক আইডির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে পবিত্র কোরআনকে অবমাননা করে একটি অত্যন্ত আপত্তিকর ছবি পোস্ট করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ থেকে উক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানানো হতে থাকে। জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানায় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম গ্রন্থকে অবমাননা করে ধর্মীয় উস্কানি প্রদান করেছেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা শংকর কুমার পাল জানতে পারেন যে, তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া আইডি থেকে ধর্মীয় অবমাননামূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ‘Shankar Pual’ নামে তার একটি ব্যক্তিগত আইডি থাকলেও বিতর্কিত পোস্টটি ‘শংকর পাল’ নামক একটি নতুন আইডি থেকে করা হয়, যা গত ৭ এপ্রিল খোলা হয়েছিল।শংকর পাল বিষয়টি জানার পরপরই ১৬ এপ্রিল আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং স্পষ্ট করেন যে আইডিটি তার নয়।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে র্যাব-৩ গত ১৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকা থেকে প্রদীপ পাল (৪০) নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রদীপ পাল কেবল শংকর পাল নয়, বরং এলাকার আরও এক নারীর নাম ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে অশ্লীল ও মানহানিকর পোস্ট করে আসছিলেন এবং এর মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেন।তদন্তে দেখা গেছে, যে ছবিটি অবমাননার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, তা ইন্টারনেটে ২০২৪ সাল থেকেই বিদ্যমান ছিল। অর্থাৎ, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল।বাংলাদেশে বিদ্যমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং অন্যের পরিচয় ধারণ করে অপরাধ সংগঠন করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদার অধিকার সংরক্ষিত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনও কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বা উস্কানি প্রদানকে নিষিদ্ধ করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রদীপ পালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ কেবল শংকর পালের নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে না, বরং উস্কানি দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় সাধারণ জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছ তদন্তের ওপর আস্থা রাখা। সাম্প্রদায়িক উস্কানি রোধে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের এই তৎপরতা জাতীয় সংহতির জন্য অপরিহার্য।