শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ভারতে শতবর্ষী শাহি মসজিদের অংশ ভাঙার পথ পরিষ্কার করল হাইকোর্ট

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে আগামী ২০২৮ সালের 'সিংহস্থ মহাকুম্ভ' মেলাকে কেন্দ্র করে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে প্রায় ১০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক শাহি মসজিদের একটি অংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দায়ের করা দুটি পৃথক রিট আবেদন খারিজ করে দিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ এই বিতর্কিত পথ পরিষ্কার করে দেয়। কোটি কোটি হিন্দু তীর্থযাত্রীর যাতায়াতের সুবিধার দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে রায় দেওয়ায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও মানবাধিকার রক্ষা আন্দোলনকারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ভারতে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মুসলিম স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক আঘাতের নতুন সংযোজন হিসেবে এবার সামনে এসেছে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক শাহি মসজিদ। আগামী ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য হিন্দু ধর্মীয় উৎসব 'সিংহস্থ মহাকুম্ভ' উপলক্ষে গোয়াল মন্দির রোড সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় উজ্জয়ন পৌর করপোরেশন। এই রাস্তা প্রসস্থকরণের জন্য ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক শাহি মসজিদের প্রায় ৩৯ দশমিক ৩৩ বর্গমিটার অংশ কেটে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়।প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মসজিদ পরিচালনা কমিটি। তবে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ জনসাধারণের চলাচল, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার যুক্তিতে মসজিদ কমিটির দুটি আবেদনই খারিজ করে দেয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, মেলায় কোটি কোটি লোকের সমাগম হবে, তাই জনস্বার্থ বিবেচনাতেই সড়ক সম্প্রসারণ প্রয়োজন।তবে শাহি মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসলিম নেতারা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতমূলক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, পর্যায়ক্রমে রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে ভারতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদ ও ওয়াকফ সম্পত্তিগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে।মসজিদ কমিটির আইনজীবী সৈয়দ আশহর আলী ওয়ারসি জানিয়েছেন, হাইকোর্টের লিখিত রায়ের বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় শাহি মসজিদ রক্ষার জন্য হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কিংবা প্রয়োজনবোধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হবে।ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে একের পর এক ঐতিহাসিক মুসলিম স্থাপনা ও মসজিদ ভাঙার এই অপচেষ্টাকে মানবাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় অধিকার সংস্থাগুলো। আইন ও নগর উন্নয়নের নাম দিয়ে ঐতিহাসিক শাহি মসজিদের ক্ষতি করার এই সিদ্ধান্তে উজ্জয়নসহ সমগ্র ভারতের মুসলিম সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতে শতবর্ষী শাহি মসজিদের অংশ ভাঙার পথ পরিষ্কার করল হাইকোর্ট