যুদ্ধাপরাধ ও সাম্প্রদায়িক উসকানিতে বাশার আসাদের মুফতি আহমেদ হাসুনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
গৃহযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়া এবং ব্যারেল বোমা হামলার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধকে ধর্মীয় আবরণ দেওয়ার অভিযোগে সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদ সরকারের সাবেক প্রধান মুফতি আহমেদ হাসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত। ২৪ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা ও জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন বিচার কমিশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালত একই সাথে আসামির যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ নির্দেশ দিয়েছে।সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ব্যাপী অত্যাচারী শাসনের অবসান ঘটার পর শুরু হওয়া রূপান্তরকালীন ন্যায়বিচার (Transitional Justice) প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল দেশটির আদালত। দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতের প্রধান বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিচারিক অধিবেশনে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মুফতি আহমেদ হাসুনকে গৃহযুদ্ধ উসকে দেওয়া এবং যুদ্ধাপরাধে প্রত্যক্ষ সহায়তার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।আদালতের নথিপত্র ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বিচারক আল-আরিয়ান জানান, বাশার সরকারের আমলে 'দার আল-ইফতা' তথা সরকারি ফতোয়া বোর্ডকে সাধারণ মানুষের ওপর চালানো ভয়াবহ সামরিক অভিযানসমূহকে উগ্র ধর্মীয় আবরণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বেসামরিক আবাসিক এলাকাগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত 'ব্যারেল বোমা' নিক্ষেপের মতো নৃশংস কাজগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে উলামায়ে কেরাম ও আসাদ ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হতো।সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, হাসুন কেবল মুখের বক্তৃতাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তিনি সিরিয়ার বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চালানো এবং সংঘাত বাড়াতে সক্রিয় 'জেরুজালেম ব্রিগেড'সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন। তদন্তে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার উসকানিতে হাসুনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলা সিরীয় বিপ্লবের পুরোটা সময়জুড়ে মুফতি আহমেদ হাসুন আসাদ সরকারের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও বিরোধী মত দমনে সরাসরি উস্কানি দিয়ে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর দামেস্ক মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাথ পার্টির ৬১ বছর এবং আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় হাসুন গ্রেপ্তার হন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে পরিচালিত এই বিচার প্রক্রিয়াকে সিরিয়ার মজলুম জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।