দেড় যুগ পর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য স্বাধীনতা কুচকাওয়াজ
দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী জাতীয় কুচকাওয়াজ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরস্থ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং শৃঙ্খলার এই মহোৎসবে অংশ নেন হাজার হাজার উল্লসিত জনতা।২৬শে মার্চ ২০২৬, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন হিসেবে খোদাই হয়ে থাকবে। দীর্ঘ দেড় দশক পর স্বাধীনতা দিবসের মূল আকর্ষণ 'জাতীয় কুচকাওয়াজ' পুনরায় ফিরে আসায় রাজধানী জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হয়ে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।কুচকাওয়াজের শুরুতে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক ঘোড়ায় চড়ে বর্ণাঢ্য ভঙ্গিতে মঞ্চের সামনে আসেন এবং অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তিন বাহিনীর প্রধানগণ অভ্যর্থনা জানান। সশস্ত্র সালাম গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি খোলা জিপে চড়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।এবারের কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), সাঁজোয়া কন্টিনজেন্ট, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টসহ বিভিন্ন চৌকস দল অংশ নেয়। এছাড়াও নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি কন্টিনজেন্টগুলো সুশৃঙ্খলভাবে মার্চপাস্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানায়।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আকাশপথে প্যারাট্রুপারদের জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ এবং বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের রোমাঞ্চকর 'ফ্লাই পাস্ট'। হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে এই দৃশ্য উপভোগ করেন। প্যারেড গ্রাউন্ডে আসা দর্শকদের অনেকের হাতে ও মাথায় ছিল লাল-সবুজ পতাকা, যা পুরো পরিবেশকে দেশপ্রেমের রঙে রাঙিয়ে তোলে। দেড় যুগ পর এমন আয়োজন দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ও জাতীয়তাবোধের সঞ্চার করেছে।