শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

সৌদি আরবকে F-35 যুদ্ধবিমান দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘ক্ষতিপূরণ’ ও নতুন মারণাস্ত্র চাচ্ছে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর সৌদি আরবের কাছে ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক প্যাকেজের অধীনে ৪৮টি F-35 লাইটনিং II স্টিলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য প্রস্তাব অনুমোদন করার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্য নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন সিদ্ধান্তের পরপরই ইহুদিবাদী ইসরায়েল তার একক সামরিক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে।ইসরায়েলি বার্তা সংস্থা ’ওয়াল্লা’ (Walla)-এর এক প্রতিবেদনে শুক্রবার জানানো হয়েছে, সৌদি আরবকে F-35 যুদ্ধবিমান দেওয়ার কারণে সৃষ্ট ‘সামরিক বৈষম্য’ পুষিয়ে নিতে তেল আবিব এখন আমেরিকার কাছে বিশেষ প্যাকেজ বা ‘ক্ষতিপূরণ’ দাবি করবে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা এমন কিছু মারাত্মক অস্ত্র ব্যবস্থা হস্তান্তরের দাবি তুলছেন, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিপূর্বে ইসরায়েলকে দিতে রাজি হয়নি।ইসরায়েলের নতুন চাহিদাপত্রপ্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক নজর কেবল অতিরিক্ত উন্নত যুদ্ধবিমান বা স্টিলথ এয়ারক্রাফটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা এখন মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র (space-based weapons), নেক্সট-জেন ইন্টারসেপ্টর এয়ারক্রাফট বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা (যেমন অ্যারো-৪ ও অ্যারো-৫-এর যৌথ উৎপাদন) এবং পাহাড়ি অঞ্চলের গভীরে থাকা ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম মারাত্মক ‘বাঙ্কার-বাস্টিং’ (bunker-busting) গোলাবারুদ চাচ্ছে। এছাড়া তারা চালকবিহীন স্বায়ত্তশাসিত ড্রোন ঝাঁক (swarms of UAVs) প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে।মার্কিন-সৌদি ঐতিহাসিক অস্ত্র চুক্তিগত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর কংগ্রেসে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি F-35এ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি (F135-PW-100) ইঞ্জিন, উন্নত এনক্রিপশন ও সাইবার যুদ্ধ সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সাপোর্ট এবং লজিস্টিক সাপোর্ট সরবরাহের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে সৌদি আরব হবে পুরো আরব বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা ৫ম প্রজন্মের এই অত্যাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান পরিচালনার সুযোগ পাবে।ফিলিস্তিন ইস্যু ও স্বাভাবিকীকরণ বিতর্কইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই শর্ত দিয়ে আসছিলেন যে, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া সৌদি আরব কোনোভাবেই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না বা সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানালেও ইসরায়েল তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তেল আবিব আশা করেছিল, আব্রাহাম আকর্ডসের আওতায় ফিলিস্তিনকে বাদ দিয়ে সৌদি আরবকে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিতে আনতে F-35 বিমানকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করবে ওয়াশিংটন। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই ওয়াশিংটন সৌদি আরবের কাছে সরাসরি F-35 বিক্রির অনুমোদন দেওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ইসরায়েলি প্রশাসন।বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় অব্যাহত গণহত্যা ও আন্তর্জাতিক অপরাধের পরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তাদের মিত্র ইসরায়েলের একক সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে অস্ত্র সরবরাহ বাড়াচ্ছে, তা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে আরও জটিল করে তুলবে।

সৌদি আরবকে F-35 যুদ্ধবিমান দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘ক্ষতিপূরণ’ ও নতুন মারণাস্ত্র চাচ্ছে ইসরায়েল