রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

আফ্রিকা

নাইজেরিয়ায় কাগজের সংকট, ঐতিহ্যবাহী 'লুহ' কাঠের ফলকে শিশুদের কুরআন শিক্ষা

পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ নাইজেরিয়ার ঐতিহ্যবাহী কানো রাজ্যে চরম আর্থিক সংকট ও শিক্ষা উপকরণের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কুরআন শিক্ষা অব্যাহত রেখেছে কোমলমতি শিশুরা। কাগজ ও ছাপা বইয়ের মারাত্মক অপ্রতুলতার কারণে তারা 'লুহ' নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কাঠের ফলকে আয়াত লিখে ও তা তিলাওয়াত করে শিক্ষা গ্রহণ করছে। প্রতিকূল জীবনযাত্রার মধ্যেও নাইজেরিয়ার মুসলিম সমাজ পুরুষানুক্রমে তাদের এই ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছে।নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক কানো শহরের স্থানীয় সাধারণ মাদরাসা ও মেক্তেবগুলোতে শিশুদের কুরআন শিক্ষার চিত্র আধুনিক বিশ্বের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। এখানে আধুনিক খাতা, কলম কিংবা মুদ্রিত বাউন্ডেড কুরআনের অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে এই সীমাবদ্ধতা শিক্ষা গ্রহণের অদম্য ইচ্ছাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। স্থানীয় শিশুরা নিয়মিত একত্র হয়ে কাঠের তৈরি বিশেষ ফলক—যাকে স্থানীয় ভাষায় 'লুহ' বলা হয়—ব্যবহার করে নিজেদের দরস সম্পন্ন করছে।শিক্ষার্থীরা প্রথমে কাঠের ফলকটিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নেয়। এরপর বিশেষ কালি ও কাঠের তৈরি কলম দিয়ে শিক্ষকের নির্দেশানুযায়ী কুরআনের আয়াত ও সূরাগুলো ফলকের গায়ে লিখে নেয়। লেখা শেষে তারা সেটি বারবার তিলাওয়াত করে আয়াত মুখস্থ বা হিফজ করে। পাঠ শেষ এবং মুখস্থ পড়া শিক্ষকের কাছে প্রদান করার পর কাঠের বোর্ডটি ধুয়ে মুছে ফেলা হয়, যাতে পরবর্তী পাঠ লেখার জন্য স্থান প্রস্তুত হয়।ইসলামী শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সমাজকর্মীদের মতে, 'লুহ' পদ্ধতিটি কেবল উপকরণের বিকল্প নয়, বরং এটি সমগ্র পশ্চিম আফ্রিকায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা একটি গভীর আত্মিক ও ঐতিহ্যগত শিক্ষার মাধ্যম। কাঠের বোর্ডে নিজ হাতে প্রতিটি হরফ লেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মনযোগে গভীরতা আসে এবং কুরআনের আয়াত স্মরণে রাখা সহজ হয়।নাইজেরিয়ার অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো ও ছাপানো বইয়ের অভাব থাকা সত্ত্বেও, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ইসলামী অনুশাসন আঁকড়ে রাখার ক্ষেত্রে নাইজেরীয় মুসলিম সমাজের এই প্রচেষ্টা বৈশ্বিক মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নাইজেরিয়ায় কাগজের সংকট, ঐতিহ্যবাহী 'লুহ' কাঠের ফলকে শিশুদের কুরআন শিক্ষা