সুদানে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ নিরসনে এবার দেশটির সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে ৯০ দিনের একটি সাময়িক অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত এই ৯০ দিনে দুই পক্ষকে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে সংঘাত নিরসন আলোচনা চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর ও সফল হলে পরবর্তীতে দেশটিতে বেসামরিক নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথ সুগম করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
আফ্রিকি শিং অঞ্চলের সংকট ও নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ
সুদানে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলা সামরিক সংঘাত ও ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে শান্তি ফেরাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন সরকার সুদান সেনাবাহিনী (এসএএফ) এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে ৯০ দিনের একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি গ্রহণের সুপারিশ পেশ করেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করে সুদান সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ৯০ দিনের যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য হলো—দীর্ঘদিন স্তব্ধ হয়ে থাকা শান্তি আলোচনাকে পুনরায় সচল করা এবং পক্ষগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির একটি যৌক্তিক ভিত্তি গড়ে তোলা।
বেসামরিক শাসন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পরিকল্পনা
সুদান সরকারের সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলোর ভাষ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক উপস্থাপিত এই খসড়া প্রস্তাব কেবল সাময়িক গোলাগুলি বন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে। যদি এই ৯০ দিনের যুদ্ধবিরতি সফলভাবে প্রয়োগ ও বহাল রাখা সম্ভব হয়, তবে সুদানকে পূর্ণাঙ্গ বেসামরিক প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামো প্রস্তুত করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো একটি স্বাধীন ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে সুদানে স্থায়ী বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
যুদ্ধক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ী লড়াই অব্যাহত: উত্তর কর্দোফানের আপডেট
একদিকে যখন আন্তর্জাতিক শান্তির প্রস্তাব আলোচনায় আসছে, অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, দারফুর সংলগ্ন উত্তর কর্দোফান প্রদেশের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর 'আল-জুমমামা' বা 'এল-কুমমামা' (El-Cummama)-র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করেছে সুদান সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহরের পূর্ণ আধিপত্য পুনরুদ্ধারে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ সদস্যদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। এতে আধা-সামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর বহু সদস্য নিহত হয়েছে এবং তাদের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সুদানের এই দীর্ঘায়িত রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতায় ইতোমধ্যেই লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং সৃষ্টি হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট। আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজর এখন মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি দুই সামরিক শক্তির সাড়ার দিকে।
মতামত