তীব্র বিষণ্নতা, জটিল অটোইমিউন রোগ আর একাকীত্বের অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে মানুষ কত পথই না খোঁজে। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের লিম্বুর্গ অঞ্চলের পুলিশ কর্মকর্তা জয়নব (আশানা) ভ্যান ডি উইজারের জীবনে সেই মুক্তি এসেছে পবিত্র কুরআনের পাতায়। দীর্ঘ আড়াই বছরের আধ্যাত্মিক যাত্রা শেষে তিনি এখন কেবল একজন মুসলিম নন, বরং ইসলামের শিক্ষায় নতুন জীবন ফিরে পাওয়া এক লড়াকু নারী।নেদারল্যান্ডসের লিম্বুর্গ পুলিশ সদর দপ্তরের ডিটেনশন ইউনিটে কর্মরত জয়নব ভ্যান ডি উইজারের জীবন কয়েক বছর আগেও ছিল চরম হতাশায় ঘেরা। একটি জটিল অটোইমিউন রোগের কারণে তাকে দীর্ঘসময় কেমোথেরাপির মতো যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। হাত ও পায়ের একজিমাসহ শারীরিক নানা সমস্যায় তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, ঘর থেকে বের হওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।জয়নবের পরিবর্তনের সূচনা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ইসলাম সংক্রান্ত কিছু পোস্ট দেখার মাধ্যমে। কৌতূহলবশত তিনি একটি কুরআন কেনেন এবং পড়তে শুরু করেন। জয়নব বলেন, "প্রথমবার যখন মসজিদে গেলাম, আমার শরীর শিউরে উঠেছিল। সেখানে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা আর ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে ইসলামই আমার গন্তব্য।" আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তিনি আর অসুস্থ হননি এবং তার দীর্ঘদিনের চর্মরোগও সেরে গেছে।ইসলাম গ্রহণের পর জয়নব তার বাবার কাছে গিয়ে সাহসের সঙ্গে বলেছিলেন, "বাবা, আমি আর সেই আগের মেয়ে নেই, আমি এখন মুসলিম।" তার পরিবার তাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। এমনকি তার বাবা তার সঙ্গে মসজিদে গিয়েছেন এবং নামাজের সারিতেও দাঁড়িয়েছেন। তবে একজন নওমুসলিম হিসেবে রমজান বা সাহ্রির সময় একাকীত্ব তাকে কিছুটা ভাবিয়ে তোলে। তিনি এখন স্থানীয় তুর্কি প্রতিবেশী এবং মসজিদ ভিত্তিক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে সেই অভাব পূরণের চেষ্টা করেন।জয়নব বর্তমানে হারলেন শহরে তার তিনটি বিড়ালের সঙ্গে বসবাস করছেন। ইসলামের কোন বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি টানিছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ইসলামে তওবা বা অনুশোচনার দরজা সবসময় খোলা। আমরা যতই গুনাহ করি না কেন, আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ সবসময় থাকে। এটাই এই ধর্মের সবচেয়ে সুন্দর দিক।"রোরমন্ডের ফাতিহ মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণকারী জয়নব এখন ইউরোপের হাজারো নওমুসলিমের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তিনি বিশ্বাস করেন, ধৈর্য আর সঠিক পথের সন্ধান মানুষকে সব অন্ধকার থেকে মুক্তি দিতে পারে।