বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের উখিয়ায় সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাতে ও ভোরে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পৃথক তিনটি পাহাড় ধসের ঘটনায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনই উখিয়া ক্যাম্পে আশ্রিত মজলুম আরাকানী (রোহিংয়া) মুসলিম এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এই ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে পাহাড় ধসের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
বছরের পর বছর ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন ও গণহত্যা থেকে বেঁচে ফিরলেও, বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে প্রকৃতির নির্মমতার মুখোমুখি হয়েছেন ভাগ্যাহত আরাকানী মুসলমানরা। সোমবার ভোররাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ভারী বর্ষণের জেরে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এর বাইরে কক্সবাজারের অন্য অংশে আরও একজন স্থানীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যরাতের নির্মম ট্র্যাজেডি
উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, উখিয়ার তিনটি পৃথক ক্যাম্পে এই ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে:
জামতলী ক্যাম্প-১৫ (ব্লক D/6): রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে প্রথম ধসের ঘটনাটি ঘটে। পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপ মোহাম্মদ কামাল হোসেন (৪৪) নামের এক শরণার্থীর শেল্টারের (ঝুপড়ি ঘর) ওপর ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কামাল হোসেন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের মাত্র ৪ বছর বয়সী শিশুসন্তান মোহাম্মদ আনাস মাটিচাপা পড়ে মারা যান। খবর পেয়ে রোহিঙ্গা ইমার্জেন্সি রেসকিউ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩টি মরদেহ উদ্ধার করে এবং ২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে।
কুতুপালং ক্যাম্প-৭ (ব্লক D/7): প্রথম ঘটনার ঠিক ৩৫ মিনিট পর, রাত ১টা ৪৫ মিনিটে কুতুপালং ক্যাম্প-৭ এ দ্বিতীয় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এখানে মোহাম্মদ রশিদের ৭ বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশুসন্তান একরাম মাটির নিচে চাপা পড়ে। কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি (নেতা) এনায়েত উল্লাহ জানান, ঘটনার পরপরই রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ বের করে আনেন।
বালুখালী ক্যাম্প-১১ (ব্লক C/11): রাত ৩টার দিকে ঘটে সবচেয়ে ভয়াবহ ও তৃতীয় ধসের ঘটনাটি। বালুখালী ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে মাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের সদস্যসহ ৪ জন রোহিঙ্গা মারা যান। নিহতরা হলেন—আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার ছোট বোন তানজিনা আক্তার (১৩), এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই শিশুসন্তান মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
কান্না আর আতঙ্কের রাত
ক্যাম্পের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই সন্তানের জনক আতঙ্কের সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "বৃষ্টির বেগ ক্রমেই বাড়ছিল, আমরা ভয়ে ঘুমাতে পারছিলাম না। হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের পাশটা ধসে পড়ল। চারদিকে মানুষের চিৎকার। চোখের পলকে আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের হারিয়ে ফেললাম।"
অন্য এক রোহিঙ্গা যুবক আকুতি জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি বর্ষায় আমরা মৃত্যুর ভয়ে থাকি। আমরা জানি আমাদের এই প্লাস্টিক-বাঁশের ঘরগুলো বিপজ্জনক পাহাড়ের ঢালে, কিন্তু আমাদের তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই! আমরা শুধু প্রতি রাতে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।"
নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) কর্তৃক নির্মিত পাহাড়ের 'সাইড-প্রটেকশন' বা প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল থাকা সত্ত্বেও এই প্রাণহানি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সায়েদ উল্লাহ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, "নারী ও শিশুসহ আমাদের ভাই-বোনদের এই মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আইওএম (IOM) যে সুরক্ষামূলক কাঠামো তৈরি করেছিল, তা জীবন বাঁচানোর কথা ছিল। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে সেখানে গলদ ছিল। আমরা অবিলম্বে আইওএম-এর কাছে একটি স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং ক্যাম্পের অন্যান্য সব কাঠামোর নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
প্রশাসনের তৎপরতা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর কারণে এই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও অন্তত দুই দিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি চরম মাত্রায় পৌঁছাবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং অব্যাহত রেখেছেন। ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স ওয়ার্কিং গ্রুপ (EPR WG) পাহাড়ের পাদদেশে থাকা পরিবারগুলোকে সাময়িকভাবে জরুরি সাম্প্রদায়িক পুনর্বাসন কেন্দ্রে (ECRC) আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে ধারণক্ষমতার বাইরে থাকা এই পাহাড়গুলোতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পরিবার এখনো চরম মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই প্লাস্টিক ও বাঁশের তৈরি নড়বড়ে ঘরে রাত কাটাচ্ছেন। মজলুম এই জনগোষ্ঠীর স্থায়ী ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃতির এই বার্ষিক অভিশাপ থেকে তাদের মুক্তি মিলছে না বলেই মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
বিষয় : রোহিঙ্গা

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের উখিয়ায় সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাতে ও ভোরে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পৃথক তিনটি পাহাড় ধসের ঘটনায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনই উখিয়া ক্যাম্পে আশ্রিত মজলুম আরাকানী (রোহিংয়া) মুসলিম এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এই ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে পাহাড় ধসের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
বছরের পর বছর ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন ও গণহত্যা থেকে বেঁচে ফিরলেও, বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে প্রকৃতির নির্মমতার মুখোমুখি হয়েছেন ভাগ্যাহত আরাকানী মুসলমানরা। সোমবার ভোররাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ভারী বর্ষণের জেরে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এর বাইরে কক্সবাজারের অন্য অংশে আরও একজন স্থানীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যরাতের নির্মম ট্র্যাজেডি
উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, উখিয়ার তিনটি পৃথক ক্যাম্পে এই ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে:
জামতলী ক্যাম্প-১৫ (ব্লক D/6): রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে প্রথম ধসের ঘটনাটি ঘটে। পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপ মোহাম্মদ কামাল হোসেন (৪৪) নামের এক শরণার্থীর শেল্টারের (ঝুপড়ি ঘর) ওপর ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কামাল হোসেন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের মাত্র ৪ বছর বয়সী শিশুসন্তান মোহাম্মদ আনাস মাটিচাপা পড়ে মারা যান। খবর পেয়ে রোহিঙ্গা ইমার্জেন্সি রেসকিউ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩টি মরদেহ উদ্ধার করে এবং ২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে।
কুতুপালং ক্যাম্প-৭ (ব্লক D/7): প্রথম ঘটনার ঠিক ৩৫ মিনিট পর, রাত ১টা ৪৫ মিনিটে কুতুপালং ক্যাম্প-৭ এ দ্বিতীয় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এখানে মোহাম্মদ রশিদের ৭ বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশুসন্তান একরাম মাটির নিচে চাপা পড়ে। কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি (নেতা) এনায়েত উল্লাহ জানান, ঘটনার পরপরই রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ বের করে আনেন।
বালুখালী ক্যাম্প-১১ (ব্লক C/11): রাত ৩টার দিকে ঘটে সবচেয়ে ভয়াবহ ও তৃতীয় ধসের ঘটনাটি। বালুখালী ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে মাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের সদস্যসহ ৪ জন রোহিঙ্গা মারা যান। নিহতরা হলেন—আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার ছোট বোন তানজিনা আক্তার (১৩), এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই শিশুসন্তান মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
কান্না আর আতঙ্কের রাত
ক্যাম্পের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই সন্তানের জনক আতঙ্কের সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "বৃষ্টির বেগ ক্রমেই বাড়ছিল, আমরা ভয়ে ঘুমাতে পারছিলাম না। হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের পাশটা ধসে পড়ল। চারদিকে মানুষের চিৎকার। চোখের পলকে আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের হারিয়ে ফেললাম।"
অন্য এক রোহিঙ্গা যুবক আকুতি জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি বর্ষায় আমরা মৃত্যুর ভয়ে থাকি। আমরা জানি আমাদের এই প্লাস্টিক-বাঁশের ঘরগুলো বিপজ্জনক পাহাড়ের ঢালে, কিন্তু আমাদের তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই! আমরা শুধু প্রতি রাতে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।"
নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) কর্তৃক নির্মিত পাহাড়ের 'সাইড-প্রটেকশন' বা প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল থাকা সত্ত্বেও এই প্রাণহানি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সায়েদ উল্লাহ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, "নারী ও শিশুসহ আমাদের ভাই-বোনদের এই মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আইওএম (IOM) যে সুরক্ষামূলক কাঠামো তৈরি করেছিল, তা জীবন বাঁচানোর কথা ছিল। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে সেখানে গলদ ছিল। আমরা অবিলম্বে আইওএম-এর কাছে একটি স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং ক্যাম্পের অন্যান্য সব কাঠামোর নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
প্রশাসনের তৎপরতা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর কারণে এই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও অন্তত দুই দিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি চরম মাত্রায় পৌঁছাবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং অব্যাহত রেখেছেন। ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স ওয়ার্কিং গ্রুপ (EPR WG) পাহাড়ের পাদদেশে থাকা পরিবারগুলোকে সাময়িকভাবে জরুরি সাম্প্রদায়িক পুনর্বাসন কেন্দ্রে (ECRC) আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে ধারণক্ষমতার বাইরে থাকা এই পাহাড়গুলোতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পরিবার এখনো চরম মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই প্লাস্টিক ও বাঁশের তৈরি নড়বড়ে ঘরে রাত কাটাচ্ছেন। মজলুম এই জনগোষ্ঠীর স্থায়ী ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃতির এই বার্ষিক অভিশাপ থেকে তাদের মুক্তি মিলছে না বলেই মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন